ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

নির্বাচন অফিসের দরজা বন্ধ করে প্রবাসীকে মারধর

নির্বাচন অফিসের দরজা বন্ধ করে প্রবাসীকে মারধর
×
×

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবাপ্রত্যাশী যুবককে মারধর করা হয় ভিডিও থেকে নেওয়া

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন প্রবাসী যুবক। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও তাঁর কার্যালয়ের কর্মচারীরা কক্ষের দরজা বন্ধ করে তাঁকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

মারধরের শিকার রবিউল ইসলাম রবিন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। তাঁকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের কক্ষে কয়েকজন কর্মচারী রবিউল ইসলামকে ঘিরে ধরে রেখেছেন। এ সময় কয়েকজন তাঁকে মারধর করছেন। একজন তাঁর গলা চেপে ধরেন। এক পর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে হইচই শুরু হয়। পরে কর্মচারীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, তাঁকে কক্ষের দরজা বন্ধ করে মারধর করা হয়। পরে দরজা খুলে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর বোনের জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসেছেন। প্রতিবারই বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। বুধবার অফিসের এক কর্মচারী তাঁর কাছে ঘুষ দাবি করেন। তবে তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নির্বাচন অফিসে যান। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, রবিউল ইসলাম যে কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন, সেগুলোতে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। এসব কাগজপত্র সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রবিউল তাঁকে গালাগাল করেন এবং উত্তেজিত হয়ে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কর্মচারীরা তাঁকে চেয়ারে বসতে বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিওতে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেটি ওই ঘটনারই চিত্র। তবে তাঁকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কোতয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নির্বাচন অফিসের ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×