ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

দখল-দূষণে খাল ভরাট বিকল জলকপাট

দখল-দূষণে খাল ভরাট  বিকল জলকপাট
×
×

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রঘুনাথপুর ও মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি গ্রামের মাঝখানে সিদ্ধেশ্বরী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ সমকাল

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দখল-দূষণে ভরাট হয়ে গেছে কুমিল্লার সিদ্ধেশ্বরী খাল। কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জলকপাটও বিকল। শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখা যায় না। ফলে সেচ সংকটে ১১টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালটি পুনর্খনন এবং নারান্দিয়া এলাকার জলকপাট সংস্কার করা হলে বদলে যেতে পারে এই অঞ্চলের কৃষিচিত্র। সেচের পানির নিশ্চয়তা পেলে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া থেকে শুরু হয়ে মুরাদনগরের ওপর দিয়ে দেবিদ্বার গিয়ে গোমতী নদীতে পতিত হয়েছে। ২৬ কিলোমিটার খালের কিছু অংশ দাউদকান্দি উপজেলায়ও পড়েছে। পানি ধরে রাখার জন্য তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় সিদ্ধেশ্বরী খালের ওপর একটি জলকপাট রয়েছে। এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে এক সময় আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বোরো ধান চাষ করা হতো। সময়ের সঙ্গে পলি জমে নাব্য হারিয়েছে খালটি। জলকপাটও অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রয়োজনের সময় খালের পানি ধরে রাখা কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের পানির সংকট তীব্র হচ্ছে।
খালের পানি না পেয়ে কেউ পুকুর থেকে, কেউ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে, পানি নিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি। যেসব কৃষকের নিজস্ব পানির উৎস বা সেচের বিকল্প ব্যবস্থা নেই, তাদের অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। কৃষকদের শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। উৎপাদন খরচ বাড়লে বাজারে ধানের দাম প্রত্যাশিত না হলে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তারা।

নারান্দিয়া এলাকার জলকপাটের পশ্চিম পাশের ১২টি সুইস পয়েন্টের স্টিলের ঢাকনার মধ্যে তিনটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্ব পাশে পানি আটকে রাখার ১২টি চেম্বারের মধ্যে তিনটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অবাধে পানি আসা-যাওয়া করতে পারছে। এতে বর্ষাকালে আগাম পানি ঢুকে পড়ছে, আবার বর্ষা শেষে পানি আটকে রাখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সিদ্ধেশ্বরী খাল পুনর্খনন, পানিপ্রবাহের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং নারান্দিয়া এলাকার জলকপাট সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রঘুনাথপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না তিনি। দখল-দূষণ ও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে গেছে। জলকপাট অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বোরো মৌসুমে খালে পানি থাকে না। এসব কারণে তাঁর মতো অনেকে বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না।
মুরাদনগর উপজেলা ছালিয়া কান্দি গ্রামের করিম মিয়া জানান, খালের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলেছে। অনেকে ভবন নির্মাণ করেছে খালের জায়গায়। এসব কারণে খালে পানি থাকে না বোরো মৌসুমে। পানি সংকটে বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না তারা। তিনি বলেন, ‘বিকল্প উপায়ে আমরা পানির ব্যবস্থা করছি, এভাবে বেশি দিন মনে হয় করা সম্ভব না। যদি খালটি পুনর্খনন ও জলকপাটটি মেরামত করা হতো তাহলে সারাবছর চাষাবাদ করতে সুবিধা হতো।’

নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকার ভাষ্য, জলকপাটটি কয়েক বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে বর্ষা মৌসুম শেষে পানি আটকে রাখা যাচ্ছে না এবং বর্ষার শুরুতে আগাম পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হচ্ছে। পানি আটকে রাখতে না 
পারার কারণে নারান্দিয়া ও ভিটিকান্দি ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষবাদ ব্যাহত হচ্ছে। খালটি পুনর্খনন ও জলকপাটটি মেরামত করলে এলাকায় বোরো চাষে বিপ্লব ঘটবে।
তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, নারান্দিয়ার জলকপাটটি সংস্কার করলে এবং খালটি পুনর্খনন করলে শুকনো মৌসুমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানির সংকট দূর হবে। কৃষক সুবিধামতো সেচ দিতে পারলে বোরো ধান চাষ আরও বাড়বে।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে জলকপাটটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লিখছি, কিন্তু বরাদ্দ পাচ্ছি না। এ বছরও বরাদ্দের জন্য চিঠি দিয়েছি, বরাদ্দ পেলে মেরামতের ব্যবস্থা করব। জলকপাট সংস্কার ও খাল পুনর্খনন করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি সংকট দূর হবে। এতে বোরো ধান চাষ বেড়ে যাবে। তিনি জানান, জলকপাটের নিরাপত্তারক্ষীর জন্য যে ভবন রয়েছে, সেটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
 

আরও পড়ুন

×