মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সমকাল
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৫
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন- সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ ও জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন- জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আসামি মজনু মিয়াকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, উজ্জ্বল মিয়া, অলিআহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
মানিকগঞ্জের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, প্রায় ১০ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড, আটজনকে যাবজ্জীবন এবং সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।