মোংলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক হাব গড়তে সব উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
মোংলা বন্দর জেটিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সমকাল
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:০৪
মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক হাব গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের জ্বালানি সংকট সমাধান, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার। এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মোংলা বন্দর জেটিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ দিনের মধ্যে দুইবার মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। একটি অঞ্চলকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একমত হতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরে নতুন কনটেইনার জেটি, ইয়ার্ড ও আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে চায়না ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি গড়ে উঠছে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গা থেকে মোংলা পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে, পাশাপাশি রেল যোগাযোগও আসছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই মোংলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, অবকাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, মোংলা, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশালসহ এ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রয়েছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত না করে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে জ্বালানির সংকট রয়েছে। এর সমাধানে কাজ চলছে। শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং সেবা খাত প্রতিষ্ঠায় সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রয়োজন স্বস্তি, শান্তি ও অগ্রগতির পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ জন্য জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নবনির্বাচিত শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার কাজ করছে। সিবিএকে যোগ্য নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। মালিক ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। উভয় পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উন্নয়নে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে শ্রমিকদেরও সহযোগিতা করতে হবে। বন্দরের বৃহত্তর স্বার্থে ছোটখাটো বিষয় উপেক্ষা করে দেশের ও বন্দরের কল্যাণে মালিক-শ্রমিক সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম (মনা)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) শেখ মামুনুর রহমান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মোংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. জুলফিকার আলী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বন্দরের ডেপুটি ট্রাফিক পরিচালক মো. সোহাগসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও শ্রমিক নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, শ্রমিকেরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। সরকার সব সময় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণে কাজ করছে। এ অঞ্চলের তথা মোংলা বন্দরের উন্নয়নকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। নবনির্বাচিত কমিটি মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বন্দরের উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানানো হয়। পরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) শেখ মামুনুর রহমান নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান।
অনুষ্ঠান শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জেটির প্রবেশদ্বারের কাছে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন।
- বিষয় :
- মোংলা
- শেখ রবিউল আলম
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি