বিরল রোগে আক্রান্ত তাসলিমার দুঃসহ জীবন
বিরল রোগে আক্রান্ত তাসলিমা আক্তার- সমকাল
কিশোরগঞ্জ অফিস
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৫৭
বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুঃসহ যন্ত্রণায় ভুগছেন তাসলিমা আক্তার (২৩) নামে
এক নারী। এতে তিনি হারিয়েছেন জীবনের সব সুখ, স্বামী ও ১০ বছরের সংসার। রিয়া
মণি নামে ৯ বছরের মেয়েকে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। ফলে
অর্থাভাবে থমকে গেছে তাসলিমার জীবন।
আট-নয় বছর বয়সে ডান হাতের রগ নীল হয়ে যায় তাসলিমার। ধীরে ধীরে হাতে গুটি ছড়িয়ে পড়ে। তখন চিকিৎসক হাতটি কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাতে রাজি হননি বাবা নূরুল ইসলাম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাসলিমার সমস্যাটি। ডান হাতের আঙুল থেকে কাঁধ পর্যন্ত অসংখ্য গুটি ও ফুলে যাওয়ায় তা বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। ফলে ডান হাতটি বাম হাতের চেয়ে কয়েক গুণ ভারী হয়ে পড়েছে। রাতে প্রচণ্ড ব্যথা ও অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি ঘুমাতে পারেন না। ভারী লাগায় হাত তুলতেও কষ্ট হয় তার।
তাসলিমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের স্বল্পমারিয়া গ্রামে। তার বিয়ে হয়েছিল একই উপজেলার রাজমিস্ত্রি সোহাগ মিয়ার সঙ্গে। তার রোগ সারার লক্ষণ না থাকায় এক পর্যায়ে স্বামী তাকে ছেড়ে যান। মেয়ে রিয়া মণি স্বল্পমারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী ও মেয়ের এখন আর খবর নেন না সোহাগ।
তাসলিমার বাবা আগে রিকশা চালাতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ায় মাস ছয়েক ধরে তিনি বাড়িতেই পড়ে রয়েছেন। ছয় বোনের একমাত্র ভাই আরমান বছর তিনেক আগে দুর্ঘটনায় আহত হলে তার ডান পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেটের দায়ে ভাঙা পা নিয়েই কাঠমিস্ত্রির কাজ করে আরমান স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন। ফলে নূরুল ইসলামের সংসারে কেবল অভাব আর হাহাকার।
তাসলিমা জানান, এভাবে তিনি আর পারছেন না। নির্মম বাস্তবতার কাছে তিনি বড় অসহায়। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় এখন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুকেই যেন নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন তাসলিমা। একমাত্র মেয়ের মুখের দিকে তাকালে খুব বাঁচতে ইচ্ছে হয় তার। এ জন্য তিনি সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।
তার
বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এই দুঃসহ
জীবন-যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করবেন। সুচিকিৎসায় তাসলিমা সবার কাছে সহযোগিতা
চেয়েছেন। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তাসলিমার বিকাশ নম্বরে (০১৮৬৬-৭৯২৪০১)
আর্থিক সহায়তা পাঠানো যাবে।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ