ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বর্জ্য দিয়ে তৈরি হবে সার ডিজেল বিদ্যুৎ

বর্জ্য দিয়ে তৈরি হবে সার ডিজেল বিদ্যুৎ
×

হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:০০

শহরের প্রতিদিনের উৎপাদিত বর্জ্য থেকে ডিজেল, কমপোস্ট সার এবং বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এ জন্য জেলার দৌলতপুর-শাহপুর সড়কের শলুয়া বাজারের কাছে ১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৫৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে 'ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল্ড অ্যান্ড রিসোর্চ রিকভারি ফ্যাসিলিটি শলুয়া'।
এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। গত বছর থেকে শুরু হলেও এ প্রকল্পের কাজ করোনার কারণে থমকে ছিল। সম্প্রতি কাজে গতি এসেছে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, মাটি পরীক্ষাসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। আগামী মার্চে প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করার আশা করছে কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৫ লাখ মানুষের এই নগরীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ২০০ টন গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে কেসিসি। এর বেশিরভাগই রাজবাঁধ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা হয়।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ সমকালকে বলেন, প্রতিদিন নগরীর ভেতর থেকে সংগ্রহ করা ৩৭৫ টন বর্জ্য শলুয়ার দ্বিতীয় গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে হাতে ও যন্ত্রের সাহায্যে পচনশীল ও প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদা করা হবে। পচনশীল বর্জ্য দিয়ে কমপোস্ট প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫ টন জৈব সার উৎপাদন করা হবে। আর প্লান্টের গ্যাস দিয়ে প্রতিদিন ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রিসাইকেল করে ডিজেল তৈরি করা হবে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল এখানে উৎপাদন করা সম্ভব।
তিনি জানান, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর বাকি বর্জ্য তিনটি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ডে রাখা হবে। এই ল্যান্ডফিল্ডের পানি পরিশোধনের জন্য পৃথক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থাকবে। পানি ট্রিটমেন্ট হয়ে পুকুরে যাবে। সেই পানি সার, বিদ্যুৎ ও ডিজেল উৎপাদনে ব্যবহার হবে। অর্থাৎ শলুয়া ল্যান্ডফিল্ডে আনা সবটুকু বর্জ্যই উৎপাদন খাতে কাজে লাগানো হবে। এই বর্জ্যের পানি জমিতে মিশবে না বা নদীতে ফেলা হবে না।
শলুয়া ল্যান্ডফিল্ডে দুটি বায়োগ্যাস প্লান্ট, দুটি কমপোস্ট প্লান্ট এবং প্লাস্টিক থেকে ডিজেল উৎপাদনের পৃথক দুটি প্লান্ট থাকবে। এখানে সব কাজই হবে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে। শুধু যন্ত্র পরিচালনা, পল্গান্ট ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক স্তরের কাজের জন্য ৩০ জন শ্রমিক এবং আটজন সুপারভাইজার কাজ করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্লান্টেই ব্যবহার করা হবে। কমপোস্ট সার ও ডিজেল বিক্রি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।
কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, বর্জ্যকে একসময় বোঝা মনে হতো। কিন্তু এই বর্জ্যকেই শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ কাজে এডিবি সহযোগিতা করছে। চলতি বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন

×