মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতেন সৌদিতে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত মাহিন
মাহিন আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪২
ভাগ্যান্বেষণে প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাড়াই গ্রামের প্রয়াত লালমিয়ার ছেলে মাহিন আলম (৩৫)। গত রোববার রাতে সৌদি আরবের দাম্মামে অগ্নি দুর্ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় আরও একজনের সঙ্গে প্রাণ হারান তিনি।
মৃত্যুর কিছুদিন আগেও মৃত্যু সম্পর্কে ফেসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মাহিন। এসব স্ট্যাটাস দেখে স্বজনদের বিলাপ ও আহাজারিতে মাহিনের গ্রামের বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মৃত্যু নিয়ে মাহিন ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ৭ আগস্ট এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমিহীন দুনিয়া। এই সুন্দর পৃথিবী, এত সুন্দর মানুষগুলো ছেড়ে যে কোনো সময় চলে যেতে পারি মহান রবের কাছে। ভয়ও লাগে আশাও আছে। মরীচিকা পৃথিবী মিছে সব মায়া। কেউ কাউকে মনে রাখে না। মনে রাখে ততক্ষণ যতক্ষণ প্রয়োজন।’
এরপর গত ৭ অক্টোবর আরেকটি স্ট্যাটাসে মাহিন লিখেছিলেন, ‘যদি তকদিরে মৃত্যু লেখা না থাকে তাহলে খোদ মৃত্যুই জীবনকে নিরাপদ রাখবে। আর যদি ভাগ্যলিপিতে মৃত্যু লেখা থাকে জীবন দৌঁড়ে এসে মৃত্যুকে বুকে জড়িয়ে নেবে।’
মাহিনের চাচা আবদুল্লাহ জানান, রাতে কাজ শেষে তারা দুজন এক সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। এসি বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের ফোনে তারা মাহিনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন।
তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে মাহিন সৌদি ছিলেন। মাহিনের বড় ভাই মো. নাসির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুর আগের রাতেও তার ভাই মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে।
তিনি বলেন, 'আমার আরেক ভাই ও আমার ছেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে জেনেছে- এসি বিস্ফোরণে তারা মারা গেছে।'
তিনি আরো জানান, দেশে লাশ আনার জন্য গত মঙ্গলবার তার ভাইয়ের কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাহিনের মা জাহানার বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার মাহিন বলেছিল কিছুদিনের মধ্যে দেশে এসে বিয়ে করবে। আর বিদেশ যাবে না, দেশেই কোনো একটা কিছু করবে। আমার কপাল আমার ছেলের আশা পূরণ হতে দিলো না।' তার আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসজল উঠে।
দাম্মামে অগ্নিদুর্ঘটনায় নিহত আরেকজন হচ্ছেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার উড়লিয়া গ্রামের মো. বোরহানউদ্দিন।
- বিষয় :
- সৌদিতে বাংলাদেশির মৃত্যু