৩ পার্বত্য জেলায় বসছে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২১ | ০৯:৪৩
দেশের পার্বত্য অঞ্চলে প্রযুক্তিগত যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। তিন জেলার ৫৯টি ইউনিয়নে বসানো হবে এ নেটওয়ার্ক।
বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, দুর্গম এলাকায় স্থায়ী নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে নেওয়া 'টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি স্থাপন (কানেক্টেড বাংলাদেশ)' প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ইউনিয়নগুলো অতিদুর্গম বিধায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনা করে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে করার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল প্রকল্পটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের।
বুধবার একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব কেনাকাটায় অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮৯১ কোটি টাকা দেবে। বাকি এক হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা আসবে এডিবি, এএফডি ও ইআইবি থেকে ঋণ হিসেবে।
শামসুল আরেফিন জানান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের জন্য 'ভেহিক্যাল মাউন্ডেট মোবাইল ইন্টারসেপটর অ্যান্ড রিলেটেড সার্ভিস' কেনা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের তরু গ্রুপের স্থানীয় এজেন্ট স্মার্ট এসসিএম সলিউশন ৬৫ কোটি টাকায় এ সেবা সরবরাহ করবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবে ঢাকা ওয়াসার রামপুরা থেকে ভাটারা হয়ে এয়ারপোর্ট রোড, উত্তরা, গুলশান, বনানী, কচুক্ষেত পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার পরিশোধিত পানির সঞ্চালন লাইন স্থাপন কাজ চায়না জিও ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ৫৮৯ কোটি টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন (চতুর্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এক লাখ শিশুকে ছয় মাস মেয়াদি উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং চার মাস মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের জন্য ১১২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ১৬০ কোটি টাকা।
ঢাকা ওয়াসার 'এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই' প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে ২০১৫ সালে কুনহাও-ডিডিসি-এফসিইএ ও ভারনেকুলার কনসালট্যান্টের যৌথ উদ্যোগকে প্রায় ২০ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অতিরিক্ত সচিব জানান, প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় এবং প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদও ৩৬ মাসের পরিবর্তে ৭৫ মাস করা হয়েছে। এজন্য ব্যয় বাড়ছে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। একইভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার গৌরীপুরে পুনর্ভবা নদীর ওপর সমন্বিত পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ককে আরও ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কাজ দেওয়া হয়েছে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরোকে। ৭৪৩ কোটি টাকায় কাজটি পেয়েছে চীনের প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে 'এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ' প্রকল্পের একটি প্যাকেজ ৬০১ কোটি টাকায় আব্দুল মোনেম লিমিটেডকে দেওয়ার প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। কুমিল্লার টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজের একটি পূর্ত কাজের 'ভেরিয়েশন বাবদ' শামীম ইঞ্জিনিয়ারিং ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংকে ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
