দোকান ও স্কুলে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের ৪টিতেই নেই নিজস্ব কোনো ভবন-সমকাল
তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৩৮
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের ৪টিতেই নেই নিজস্ব কোনো ভবন। এসব পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে দোকানঘর ও প্রাইমারি স্কুলে। উপজেলার ১নং সাতানী, ৫নং কলাকান্দি, ৬নং ভিটিকান্দি ও ৭নং নারান্দিয়া ইউনিয়নের একটিতেও নেই নিজস্ব ভবন। ফলে যখন যিনি চেয়ারম্যান হন তার সুবিধামতো জায়গায় দোকানঘর ও স্কুলেই চলছে পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম।
মূলত ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা আবার কোথাও ভূমির ব্যবস্থা হলেও ভূমির অবস্থান নিয়ে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মতবিরোধের কারণে ঝুলে আছে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম।
সাতানী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক সরকার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর প্রায় ২০ বছর ধরে অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে কার্যক্রম। তবে আমার পূর্বতন চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ধন মিয়ার সময় কৃষ্ণপুরের এক স্থানে ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র হয়েছিল এবং ঠিকাদার কাজ শুরু করার জন্য নির্মাণ সামগ্রীও এনেছিল কিন্তু নির্ধারিত স্থান নিয়ে সাতানী গ্রামবাসীর আপত্তির মুখে নির্মাণকাজ স্থগিত হয়। বর্তমানে উচ্চ আদালতে স্থান নির্ধারণের বিষয়টি বিচারাধীন। এলাকার এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাতানী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের বিষয়টি অবহিত করেছি, তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুত ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, ১৯৯২ সালে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের একাংশ নিয়ে কলাকান্দি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে কোনো স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি। তবে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নিজ গ্রাম হারাইকান্দিবাসীর আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ৫নং কলাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ২৫ শতক জমি ক্রয় করেছি। আশা করি কোনো সমস্যা না হলে আমাদের এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় স্থায়ী ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।
ভিটিকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা জানান, পুরোনো ভবনটি আনুমানিক নব্বইয়ের দশকে গোমতী নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর থেকেই আর কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে মানিককান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলছে। তবে আমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ২৫ শতক ভূমি দিয়েছি। এখন ভবন নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন।
৭নং নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, ওই ইউপির নিজস্ব ভবন থাকলেও ১৯৯২ সালে ইউনিয়নের একাংশ নিয়ে জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন গঠিত হওয়ার পর ভবনটি জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের আওতায় চলে যায়, ফলে নারান্দিয়া ইউনিয়নে কোনো স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আসমানীয়া বাজারে ২৫ শতক ভূমি ক্রয় করি এবং ভবন নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। বিগত দিনে আমাদের দলীয় এমপি না থাকায় ভবন নির্মাণের অগ্রগতি হয়নি।
ইউএনও রাশেদা আখতার বলেন, যেসব ইউপিতে নিজস্ব ভবন নেই ওইসব ইউপিতে যেন দ্রুত স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা যায় সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে শিগগির আমি কথা বলব এবং ভবন নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, সম্প্রতি সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি, তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ভূমি জটিলতা সমাধান করে খুব দ্রুত ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।
