ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: জামিনে থাকা মিরুর শোডাউন, আতঙ্কে বাদীপক্ষ

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: জামিনে থাকা মিরুর শোডাউন, আতঙ্কে বাদীপক্ষ
×

জামিন পেয়ে শুক্রবার শাহজাদপুর স্কুল মাঠে হালিমুল হক মিরু বক্তব্য রাখেন -সমকাল

সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:১৮ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৩৮

সমকাল সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি হালিমুল হক মিরু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন পাওয়ার পর নিজ এলাকায় অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন করেছেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মিরু গত ১২ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। ১৭ নভেম্বর রাজশাহী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে শুক্রবার নিজ এলাকা শাহজাদপুর আসেন। বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পাশে বিসিক বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল নিয়ে মিরুকে পাইলট হাইস্কুল খেলার মাঠে নিয়ে আসেন অনুসারীরা। সেখানকার মুক্তমঞ্চে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

এদিকে হত্যা মামলার একজন আসামির জামিনে মুক্ত হয়ে এমন শোডাউন ও মিছিল করায় শাহজাদপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন শিমুল হত্যার মামলার বাদী তার স্ত্রী বেগম নুরুন্নাহার খাতুন। এ মামলায় মিরুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিলেও এখনও চার্জ গঠন হয়নি। আড়াই বছরেও মামলার চার্জ (অভিযোগ) গঠন না হওয়ায় উদ্বিগ্ন নিহতের পরিবার। এ অবস্থায় অনুসারীদের নিয়ে মিরুর শোডাউন ও মিছিল দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাংবাদিকরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন।

শাহজাদপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাদুর রহমান বলেন, পেশাদার সাংবাদিক হত্যার প্রধান অভিযুক্তকে নিয়ে অনুসারীদের এমন শোডাউন মামলার বাদীর দুশ্চিন্তার কারণ।

শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুণ্ডু বলেন, অনুসারীদের নিয়ে মিরুর শোডাউন দেখে আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা উদ্বিগ্ন। প্রধান আসামি মিরু জামিনে ছাড়া পেয়ে শাহজাদপুরে এসে বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দেন কিনা-সেটিও ভাবনার বিষয়।

মামলার বাদী বেগম নুরুন্নাহার খাতুন বলেন, খুনের ঘটনার প্রায় দু'মাস পরেই পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়; আড়াই বছর পার হলেও মিরুসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়নি। সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ (২য়) আদালত এবং সর্বশেষ রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অন্তত ১০ বার চার্জ গঠন পিছিয়েছে। এটি নিয়ে বরাবরই শঙ্কায় আছি। এখন মিরু জামিনে মুক্ত হয়ে শাহজাদপুর আসায় নতুন করে শঙ্কায় পড়েছি।

এদিকে, সাংবাদিক হত্যার প্রধান আসামি মিরুকে নিয়ে শাহজাদপুর পৌর শহরে অনুসারীদের শোডাউন ও মিছিলে বাধা দেয়নি পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসন। মিরু অসুস্থতার অজুহাতে জামিনে মুক্তি পেয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন কি-না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শাহজাদপুর থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, জামিন পেয়ে যে কেউ তার অনুসারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে পারেন- এটা তার মৌলিক অধিকার। তবে জামিনে যদি কোনো নির্দেশনা থাকে তাহলে তাকে সে অনুযায়ী চলতে হবে। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে জামিন বাতিলের জন্য বাদী পক্ষ আদালতে আবেদন করতে পারে।

শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহমিদা হক শেলী জানান, মিরু জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার সব কাজ করার নাগরিক অধিকার রয়েছে। তবে আইনগত দিকটা আমরা দেখব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, হালিমুল হক মিরুর জামিনের নির্দেশনা তার জানা নেই। আদালত যে শর্তে মিরুকে জামিন দিয়েছেন তা মেনে চলতেই হবে।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌর সদরের মনিরামপুরে মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার জন্য প্রথমে শিমুলকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরের দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। শিমুল সমকালের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন।

আরও পড়ুন

×