প্রবাসীর খপ্পরে সর্বস্বান্ত নওগাঁর ১০ পরিবার
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:২২
ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে জমি বিক্রি ও ঋণ করে সৌদিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নওগাঁর ১০ যুবক। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের চককালিদাস গ্রামে। কিন্তু একই গ্রামের প্রবাসী সবুজ সরদারের খপ্পরে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই ১০ যুবক ও তাদের পরিবার। এখন বিপদের মধ্যে সৌদিতে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের স্বজনদের আকামা করে দেওয়ার নামে সবুজের বাবা কোমর উদ্দিন ও মা রোকেয়া বিবিকে টাকা দেওয়া হয়েছে। একদিকে সবুজ আকামা করে না দিয়ে যুবকের কাছ থেকে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছেন, অন্যদিকে তার বাবা-মা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন। বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ সদর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে। সমঝোতার নামে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আড়াই লাখ টাকা সবুজের পরিবারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়ার দাবি করা হলেও তিনি অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে রুবেল হোসেন দুই বছর আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকায় সৌদি যায়। সেখানে একটি কোম্পানিতে ছয় মাস কাজ করে। এরপর সবুজের শ্রমিক সরবরাহের কোম্পানিতে কাজ শুরু করে। ছেলের আকামা করে দেবে বলে সবুজ ৩ লাখ টাকা দিতে বলে। আকামা করে দেওয়ার শর্তে সবুজ তার বাবা-মায়ের কাছে আমাকে ৩ লাখ টাকা দিতে বলায় এক বছর আগে তাদের বাড়িতে গিয়ে টাকা দিই। এরপর থেকেই সবুজ টালবাহানা শুরু করে। ছেলেরও আকামা করে দেয়নি। তার কোম্পানিতে যে চার মাস কাজ করেছিল, সে টাকাও ছেলেকে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, ছেলের আকামা করে না দেওয়ায় তিন মাস আগে সবুজের বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতে গিয়েছিলাম। উল্টো তারা আমার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দেয়। একদিন পুলিশ বাড়িতে এসে হুমকি-ধামকি দেয়। পরে আমিও থানায় একটি অভিযোগ করি। বিষয়টি পুলিশকে খুলে বলা হলে দু'পক্ষকে থানায় ডেকে পাঠায়। বৈঠকে তারা ৩ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং গত ১০ নভেম্বর আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে আপসনামা হয়। কিন্তু সেই টাকা আজও হাতে পাইনি। শুনেছি টাকা পুলিশের (এসআই মামুন) কাছে আছে। পুলিশ টাকা না দিতে বিভিন্ন টালবাহানা করছে।
একই গ্রামের রাশিদুল, প্রবাসী সাইদুলের স্ত্রী রুমা, আয়নালের বাবা লতিফ, জিয়াউর রহমানের ভাই লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন সবুজ ও তারা মা-বাবার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন।
সবুজের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে সবুজ ১৩ বছর ধরে সৌদিতে। সেখানে রঙের কাজ করে। কোনো শ্রমিক সরবরাহ করে না। আমার কাছে এলাকাবাসী কোনো টাকা দেয়নি। সব অভিযোগ মিথ্যা। এসব বিষয় এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানেন।
সবুজের মামা আবুল কালাম বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতার আড়াই লাখ টাকা এসআই মামুনকে দেওয়া হয়েছে। থানায় বৈঠক হয় এবং থানাতেই টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন বাদীরা টাকা পেল কিনা তা আমার দেখার বিষয় নয়।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো সমস্যা যেন না হয়, এজন্য সবুজের পরিবার ও সিরাজুল ইসলামকে থানায় ডেকে সমঝোতার বিষয়ে তিনজন করে ছয়জনের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি এবং কেউ টাকা আমাকে দেয়নি। এলাকাবাসী তাদের টাকা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উভয়ের মধ্যে টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো কাগজপত্র কেউ দেখাতে পারেনি। টাকা না দিলে তো কেউ কাউকে চাপ দিতে পারে না।
নওগাঁ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল বিন আহসান বলেন, থানায় অভিযোগ পাওয়র পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়। তাদের মধ্যে মৌখিকভাবে লেনদেন হয়েছে। প্রমাণ স্বরূপ কোনো কাগজপত্র ভুক্তভোগীদের কাছে নেই। বস্তুনিষ্ঠ কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণও পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া যার বিরুদ্ধে অভিযোগ (সবুজ সরদার) সেও দেশের বাইরে।
- বিষয় :
- নওগাঁ
