ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মুক্তি পাচ্ছেন সেই আজিজ

মুক্তি পাচ্ছেন সেই আজিজ
×

গত ছয় দিন ধরে বিনা অপরাধে কারাগারে রয়েছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের এই নিরপরাধ আজিজ

যশোর অফিস

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:৫৬ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:০০

কাতার চলে গেছে আব্দুল আজিজ। অথচ ডাকাতি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি সে। অবশ্য জামিন নিয়েই গেছে। ফলে আদালতে গরহাজির থাকায় তার বিরুদ্ধে ফের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেয়েই তার জায়গায় নিরপরাধ আব্দুল আজিজকে ধরে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত ছয় দিন ধরে বিনা অপরাধে কারাগারে রয়েছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের এই নিরপরাধ আজিজ। তবে শিগগির তিনি মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব। তিনি বলেন, দুইজনের নিজের ও বাবার একই নাম হওয়ায় ভুলটি হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ২০০৯ সালের মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে নাম, বাবার নাম, গ্রাম একই হওয়ায় আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তারা বলেননি, এ মামলার আসামি নন তিনি। তার নামে অন্য মামলা আছে। সে জন্য তারাও মনে করেছেন, ওয়ারেন্ট হতে পারে। আদালতে হাজির করার পরও বলেননি। পরে আদালতের নথিতে জানা যায়, এই আব্দুল আজিজ সেই আসামি নন। আমরা আসামি আজিজের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। রোববার (আজ) আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে লোহিত মোহন সাহার ছেলে নবকুমার সাহার বাড়িতে। সে ঘটনায় ২৩ অক্টোবর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন নবকুমার সাহা। মামলার চার্জশিটে ৯ আসামির মধ্যে ৭ নম্বর আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি মাঠপাড়া গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে (জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম আছে আজিজুর রহমান)। চার্জশিটে তার বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর।

২০১২ সালের ১ মার্চ প্রকৃত আসামি আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আব্দুল আজিজকে। ২০১২ সালের ৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পায় সে। আসামি আব্দুল আজিজের আইনজীবী ছিলেন যশোর বারের সাবেক সম্পাদক শাহানুর আলম শাহিন। সেই থেকে আহাদ আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেয়। তবে তিন বছর আগে সে কাতার চলে যায়। আদালতে গরহাজির থাকে। ফলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আবার। এ পরোয়ানায় গত ৯ ডিসেম্বর রাতে চৌগাছা থানার এএসআই আজাদের নেতৃৃৃৃত্বে পুলিশ প্রকৃত আসামি আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে বাদ দিয়ে মৃত আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। জজ আদালত শীতকালীন অবকাশে থাকায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চৌগাছা থানার এএসআই আজাদ বলেন, আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক থাকার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটককালে গ্রেপ্তার আব্দুল আজিজের পরিবার থেকেও জানানো হয়নি, তিনি মামলার আসামি নন।

যদিও প্রকৃত আসামি আব্দুল আজিজের বর্তমান বয়স ৪০ বছর, আর গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল আজিজের বয়স ৬১ বছর। আসামি আব্দুল আজিজের বাবা আহাদ আলী কারিগর জীবিত থাকলেও গ্রেপ্তার আব্দুল আজিজের বাবা মৃত। আসামি আজিজের মায়ের নাম মর্জিনা বেগম, গ্রেপ্তার আজিজের মায়ের নাম মৃত খাদিজা।

আরও পড়ুন

×