বেহাল ১৩২ কি.মি. রেলপথ দুই মাসে পাঁচ দুর্ঘটনা
সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৭ | আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৪৬
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-ময়মনসিংহের ১৩২ কিলোমিটার রেলপথ দীর্ঘদিন সংস্কার ও
মেরামতের অভাবে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। গত দুই মাসে পাঁচবার ট্রেনের বগি
লাইনচ্যুত হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির
কারণে রেলপথ এমন বেহাল বলে অভিযোগ করেছে সচেতন মহল। সরেজমিন এর সত্যতাও
মিলেছে। রেললাইন থেকে পাথর সরে গিয়ে গজিয়েছে সবুজ ঘাস। কোথাও সরে যাচ্ছে
মাটি; প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে ক্লিপ। একাধিক অরক্ষিত ক্রসিংও রয়েছে।
সেতুগুলোতে বাঁশের বদলে দেখা মিলেছে কাঠের হালকা সেফটি। অথচ এই রেলপথ
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভৈরবে রয়েছে শতাধিক কর্মচারী। তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য
রয়েছে সহকারী নির্বাহী প্রকোশলীর অফিস। অবহেলার কারণে রেলপথটি ঝুঁকিপূর্ণ
হয়ে ওঠায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রেন। সীমাহীন
ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী। এই রেলপথের কালিকাপ্রসাদ
রেলওয়ে স্টেশনটি কগজে-কলমে চালু থাকলেও গত পাঁচ বছর ধরে নেই মালপত্র বুকিং
কিংবা টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। অথচ প্রতিদিনই থামছে ট্রেন, ওঠানামা করছে
যাত্রী।
স্থানীয় রেলওয়ে অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ২১টি স্টেশন
রয়েছে। লোকবলের অভাবে বছরের পর বছর কালিকাপ্রসাদ, ছয়সূতি, হালিমপুর,
বোকাইনগর, নীলগঞ্জ, যশোদলসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এর ফলে ব্যবসায়ীরা মালপত্র বুকিং দিতে পারছে না। যাত্রীরাও বিনা টিকিটে রেল
ভ্রমণ করছে। এতে প্রতি বছর সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এসব বিষয়ে ভৈরব সহকারী নির্বাহী প্রকোশলী জিষাণ দত্তের সঙ্গে কয়েকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভৈরব স্টেশন
মাস্টার কামরুজ্জামান বলেছেন, কিছুটা হলেও দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। তা ছাড়া
রেললাইন দেখে রাখার দায়িত্ব সবার।
কিশোরগঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, রেল রুটকে আধুনিকীকরণ
করতে হলে ব্রিটিশ আমলের এই লাইনকে ডিজিটাল লাইনে পরিণত করতে হবে। বসাতে হবে
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি।
- বিষয় :
- রেলপথ
