শহীদ সাংবাদিকের চা বিক্রেতা ছেলের পাশে রাসিক মেয়র
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৫০
রাজশাহীর শহীদ সাংবাদিক এম এ সাঈদের দ্বিতীয় ছেলে আলমগীর হোসেন বাবলুর
পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম
খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বাবলুর পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তার এক
ছেলেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর 'শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান এখন চা বিক্রেতা'
শিরোনামে সমকালে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ বছরের ১৪ ডিসেম্বর
শহীদ বুদ্ধিজীবী
দিবসে শহীদসন্তান বাবলুর স্মৃতিচারণে শহীদ সাংবাদিক এম এ সাঈদকে নিয়ে
বুদ্ধিজীবী দিবসের বিশেষ সংখ্যায় একটি বিশেষ লেখা প্রকাশ হয়। এরপর বিভিন্ন
ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হতে থাকে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং পাশে
থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের একান্ত সচিব আলমগীর কবীর জানান, শহীদ সাংবাদিক এম
এ সাঈদের ছেলে ফুটপাতের চা বিক্রেতা- এ খবরটি গণমাধ্যমে এলে মেয়র
খায়রুজ্জামান লিটনের নজরে আসে। মেয়রের নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি নগরীর
মালদা কলোনিতে বাবলুর বাড়িতে যান।
শহীদসন্তান আলমগীর হোসেন বাবলু বলেন, বিভিন্ন সময় অনেকে খোঁজখবর নিয়েছেন।
কিন্তু কেউ তেমন কিছু করেননি। তবে এবার মেয়র রাজশাহী সিটি করপোরেশনের লোকজন
পাঠিয়ে আমার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমার এক ছেলেকে চাকরি দেবেন
বলে জানিয়েছেন। এতে আমার পরিবারের সবাই খুশি।
উল্লেখ্য, আলমগীর হোসেন বাবলু নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে ফুটপাতে চা
বিক্রি করে সংসার চালান। তার বাবা শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক এম এ সাঈদ দেশ
স্বাধীনের সময় তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। রাজশাহীতে আর্ট
কাউন্সিল বর্তমানে পদ্মা মঞ্চ ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন
ছিলেন তিনি। বেতার প্রতিষ্ঠাকালে সংবাদ পাঠক ও অভিনেতা ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী তাকে বাড়ি থেকে ধরে রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা হলে নিয়ে যায়। এর পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে
লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমিতে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- শহীদ সাংবাদিকের চা বিক্রেতা
