গাজীপুরে আগুনে নিহতদের স্বজনেরা পেলো ক্ষতিপূরণের চেক
ছবি: সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৩ | আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:০৭
গাজীপুর সদর উপজেলার কেশোরিতায় লাক্সারি ফ্যান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিবারের সদস্যদের হাতে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাব চত্বরে কারখানার হেড অব সেলস অফিসার শফিকুর রহমান নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে ওই চেক তুলে দেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওই ফ্যান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহতরা হলেন- গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নেরর সাইফুল ইসলাম খানের ছেলে কলেজছাত্র ফয়সাল খান (২১), নোয়াগাঁও এলাকার লাল মিয়ার ছেলে পারভেজ হোসেন (২৫), কেশোরিতা এলাকার বীরবল দাসের ছেলে উত্তম দাস (২৬), ময়মনসিংহের রাঘবপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম (২০), দিনাজপুরের কাহারোল থানার বারপটিকা এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে লিমন ইসলাম (২২), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মনির মিয়ার ছেলে ইউসুফ আলী (২৪), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মারতা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে শামীম (২২), একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে রাশেদ (৩২), রংপুরের কাচুবকুলতলা এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (১৫) এবং নরসিংদীর বেলাব থানার চরকাশিনাঘর এলাকার মাজু মিয়ার ছেলে সজল মিয়া (২০)।
এর আগে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লাশ দাফনের জন্য নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
চেক প্রদান অনুষ্ঠানে কারখানার হেড অব সেলস অফিসার শফিকুর রহমান বলেন, কারখানা যতদিন থাকবে, ততদিন নিহত প্রত্যেক পরিবারকে মাসিক ১০ হাজার টাকাসহ উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাদের পরিবারের যোগ্য ও কর্মক্ষম ব্যক্তিকে চাকরি ও নিহতদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এ সময় তিনি কারখানার অনুমোদনের সব কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পর নিহত রাশেদের বাবা কামাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, দোতলা ভবনের ছাদের ওপর বিশাল আকারের টিনশেড ঘরে একটি মাত্র দরজা থাকার কারণে আগুন লাগার পর তার ছেলেসহ অন্যরা বের হতে পারেনি। বিকল্প কোনো দরজা থাকলে তারা পুড়ে মরত না। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, কোনো রকম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, পানির মজুদ না রেখে, জরুরি নির্গমণের ব্যবস্থা না করে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
