সাঁওতাল হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ
সাঁওতাল হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় । ছবি: সমকাল
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৭:১৩ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৭:১৩
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার, সাঁওতাল-বাঙালিদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ বাপ-দাদার জমি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক সড়কের কাটামোড় নামকস্থানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে মাদারপুর জয়পুরপাড়া থেকে সাঁওতালদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম শাখার সাধারণ সম্পাদক গণেশ মুরমু। বক্তব্য দেন, সিপিবি কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য প্রতিভা সরকার ববি, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সিপিবি সভাপতি তাজুল ইসলাম, সিপিবি সদস্য আল মামুন মোবারক, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, উপজেলা ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুন্নবী মিলন, উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু, আদিবাসী নেত্রী কেরিনা হাসদা, রুমিলা কিসকু, উপজেলা যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তিন সাঁওতালের রক্তে ভেজা সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের এই জমি। বর্তমানে এই জমিতে বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সাঁওতালরা। সরকারের অনেক জমি পতিত রযেছে। সেখানে ইপিজেড করা হোক। এই তিন ফসলি জমিতে নয়। এ জমিতে ইপিজেড করলে সাঁওতালদের প্রতি চরম অন্যায় করা হবে। এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে বলেও তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেড হবে। তবে তা সাঁওতালের রক্তে ভেজা মাটি সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে নয়। তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার, সাঁওতাল-বাঙালীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ বাপ-দাদার জমি ফেরতে দাবি জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে চিনিকল শ্রমিক, পুলিশ ও সাঁওতালদের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশের গুলিতে শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নামে তিন সাঁওতাল মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০জন।
