ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ছে
শয্যা ফাঁকা নেই খুলনা শিশু হাসপাতালে
ফাইল ছবি
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:২৪
প্রচণ্ড শীতে খুলনায় রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ২৭০ শয্যা বিশিষ্ট খুলনা শিশু হাসপাতালে এখন আর কোনো শয্যা খালি নেই। ওই হাসপাতালের বহির্বিভাগে বাচ্চাদের ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ নিয়ে এখন প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জনেরও বেশি শিশু চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে।
রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদেরও। এরই মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মেডিসিন বিভাগ থেকে শয্যা সংখ্যা কমিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, শীতের সময় ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে শিশুরা একটু বেশি আসে। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর মধ্যে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। তাই ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি নতুন করে বাড়ানো হয়েছে, যাতে শিশুরা প্রয়োজনীয় সেবা পায় ও অন্য শিশুরাও নিরাপদে থাকে।
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ডিসেম্বর খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই ছিল এ বছরের খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ওই তাপমাত্রা চলে টানা তিন দিন। এর পর ২৩ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত সোমবার নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের শীতে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু হাসপাতালের পাশাপাশি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালেও শিশু রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বহির্বিভাগে ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে শিশু রোগী ভর্তির হার বেশি। এসব রোগ থেকে বাঁচাতে শিশুদের ঠান্ডা থেকে দূরে ও পরিস্কার-পরিছন্ন রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
দেড় বছরের মেয়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে নিয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে এসেছেন বাগেরহাটের মোল্লাহাট এলাকার আমিরুল ইসলাম। অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা অভিভাবকদের পরামর্শ দেন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে মেয়েকে নিয়ে ওই হাসপাতালে আছেন তারা।
আমিরুল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই খুলনায় এসেছিলাম। পরে স্থানীয় আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে লেপ-কাঁথা নিয়ে চলছি।
এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক মিঠুন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে যেসব রোগী আসছে তাদের বেশিরভাগের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছর। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি।
খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নূর-এ-আলম সিদ্দিক বলেন, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ার ৯০ শতাংশ চিকিৎসাই বাড়িতে বসে করা যায়। রোটা ভাইরাস-জনিত ওই রোগে সাধারণত কোনো ওষুধ ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। ডায়রিয়ার একমাত্র ওষুধ হলো খাওয়ার স্যালাইন। তবে পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিরায় স্যালইন পুশ করার প্রয়োজন হতে পারে। প্রস্রাব ঠিক থাকলে সাধারণত ধরে নেওয়া যায় শিশু সুস্থ আছে।
- বিষয় :
- খুলনা
- শীত
- খুলনা শিশু হাসপাতাল
- ঠান্ডাজনিত রোগ
