ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সালিশ বৈঠক থেকে ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ

সালিশ বৈঠক থেকে ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ
×

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৬

ফেনীর সোনাগাজীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা করার সময় সালিশ বৈঠক থেকে ধর্ষককে ধরে সোমাবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষকের নামে রাতেই সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত ধর্ষক আরমান হোসেন মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের আবুল খায়ের কোম্পানি বাড়ির মোশারফ হোসেন লিটনের ছেলে।

প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন বলেন, গত শনিবার দুপুরে আরমান হোসেন শিশুটিকে ফুসলিয়ে তাদের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। আরমানের পরিবারের সদস্যরা কাউকে না জানাতে শিশুটির পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তারা ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখায় আমরা ঘটনাটি জানতে পারিনি। শনিবার রাতে ধর্ষণের ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। গ্রাম পুলিশ রুবেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে সালিশ বৈঠক পণ্ড হয়ে যায় এবং অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করি। পরে মডেল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

শিশুটির মা বলেন, শনিবার দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করার সময় আরমান আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে না পেয়ে আমি আরমানদের ঘরে গিয়ে দেখি সে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করছে। আমি চিৎকার শুরু করলে সে আমার মাথায় আঘাত করে। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছে। পরে আমার স্বামী মেয়েকে সোনাগাজী হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা আপস মীমাংসার কথা বলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভিকটিম শিশুর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটি ফেনীর সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষক পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করার পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×