বাবার হাতে প্রাণ গেল ১০ বছরের মেয়ের
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৮
বেকার বাবার দ্বিতীয় সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। তাই নিয়ে মা-বাবার কলহও ছিল নিত্য ঘটনা। অনেক সময় ছোট্ট মেয়েটি বাবাকে বাধা দিয়ে বলত, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করো না। দুর্ভাগ্য, পারিবারিক কলহের বলি হতে হয়েছে ১০ বছরের সেই ফুটফুটে মেয়েটিকে। বাবার হাতেই খুন হয়েছে স্বর্ণা আক্তার নামে ওই শিশুটি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক বাবা মশিউর রহমান ওই এলাকার হাজি সাহাজউদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর গ্রামে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত স্বর্ণা মশিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। প্রথম স্ত্রী পার্শ্ববর্তী গ্রাম নিশ্চিন্তপুরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
স্বর্ণার মা রুপালী বেগম একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে স্বামী মশিউর রহমান সংসারের খরচ নিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করে প্রথম স্ত্রীর বাসায় চলে যান। সকালে নিজেও গার্মেন্টে কাজে চলে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশীরা তার অফিসে খবর পাঠান- মেয়ে খুন হয়েছে।
সন্তান হারিয়ে আহাজারি করতে থাকা রুপালী বেগম বলেন, আমার মেয়েকে চাকু দিয়ে গলা কেটে ফেলে রেখে গেছে মশিউর। মেয়েকে হত্যা করে সে পালিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা, একে তো মশিউর বেকার, তার ওপর দুই সংসার নিয়ে বিপাকে ছিলেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারিক কলহের জের ধরেই নিজের সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছেন।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রনি কুমার সাহা জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরেই মশিউর মেয়েকে খুন করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের মা রুপালী বেগম।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- গলা কেটে হত্যা
