ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

অনশনে অসুস্থ পাটকলের ২৮ শ্রমিক

অনশনে অসুস্থ পাটকলের ২৮ শ্রমিক
×

বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিকদের সন্তানরা এসে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে, ছবিটি খুলনার -সমকাল

খুলনা ও রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২১

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অসুস্থ ১৮ শ্রমিককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পাটকল শ্রমিকদের অনশনস্থলে গিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। রাজশাহীতে অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছয় শ্রমিক। এ ছাড়া নরসিংদীতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চার পাটকল শ্রমিক।

গত রোববার দুপুর থেকে খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের বিআইডিসি সড়কে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। অন্য চারটি পাটকলের শ্রমিকরা তাদের নিজ নিজ মিলের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন।

শ্রমিকরা জানান, গত পাঁচ দিনে মোট ১৮ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পাঁচটি পাটকল শ্রমিকদের সন্তানরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা নতুন রাস্তার মোড়ে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিট খুলনা-যশোর মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেন। পরে তারা আবার মিছিলসহকারে প্লাটিনাম জুট মিল গেটে চলে আসেন।

দুপুর দেড়টায় ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. মো. জাফরুল্লাহ্‌ চৌধুরী অনশনস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে অবহেলা করছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ১১ দফা দাবির মধ্যে ১০ দফা একদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পরে জাফরুল্লাহ্‌ চৌধুরীর পক্ষ থেকে অনশনরত শ্রমিকদের মধ্যে ৩০০ কম্বল বিতরণ করা হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান জানান, মজুরি কমিশন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে পাটকল শ্রমিকদের দাবির সমর্থনে মানববন্ধন করে মহানগর বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা, মনিরুজ্জামান মনি, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

এদিকে, রাজশাহীতেও টানা পাঁচ দিন ধরে আমরণ অনশন করে চলেছেন এখানকার পাটকল শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও দুই শ্রমিক। নিয়ে মোট ছয়জন অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গত রোববার দুপুর থেকে রাজশাহীর কাটাখালী এলাকায় রাজশাহী পাটকলের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা অনশন শুরু করেন। এরপর তীব্র শীতের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। খোলা আকাশের নিচে রাত জেগে অবস্থান করে চলেছেন।

রাজশাহী পাটকল শ্রমিকদের নেতা জিল্লুর রহমান বলেন, দাবিগুলো মেনে নিলে আমরা কাজে যোগদান করব। দাবি না মানলে আমৃত্যু অনশন চলবে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিকদের সন্তানরা এসে আন্দোলনে যোগ দেন। তারা বলেন, সরকার বিনামূল্যে বই দেয়। কিন্তু খাতা-কলম আর খাবার তো দেয় না। তাদের বাবার বেতন বন্ধ থাকলে তাদের খাবারও বন্ধ থাকে। পড়াশোনাও বন্ধ থাকে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর অনশনস্থলে অবস্থান করেন। পঞ্চম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অনশন করেন তারা। সকাল ১১টায় আমরণ শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ইউএমসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থী ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকদের সন্তান। দীর্ঘ অনশনে চার শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের অনশনস্থলেই স্যালাইন দেওয়াসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×