বই উৎসবে শিক্ষা কর্মকর্তার অপেক্ষায় ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা কর্মকর্তার অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রাখা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে সহপাঠীরা তার মাথায় পানি ঢালেন। ছবি: সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৪৪
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসবেন, তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে স্কুল মাঠে। সকাল ১১টায় বই উৎসবে তাদের মেতে ওঠার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীর হাতে তখনও নতুন বই তুলে দেননি। মাঠে অধীর প্রতীক্ষায় অভিভাবকরাও। দুপুর গড়িয়ে গেছে বহু আগেই। তখনও আসেননি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। ততক্ষণে ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের প্রতীক্ষার বাঁধ যেন ভেঙে গেছে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন অভিভাবকরা।
ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের ঘরে। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া ও অফিস কক্ষে আলাপ-আলোচনার পর ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই তুলে দিতে আসেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এরই মধ্যে রোদে দাঁড়িয়ে থেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এক ছাত্রী। শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষা কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীনতায় সমালোচনা চলছে সর্বত্র। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের দিন বুধবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
সারাদশের মতো গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান আসবেন বলে প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত সময় কাউকে বই দেননি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাঠে অপেক্ষা করছিলেন।
এরই মধ্যে মোসাম্মৎ সিফা নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষুধা নিয়ে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে জ্ঞান হারিয়ে মাঠের মধ্যে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে সহপাঠীরা শুইয়ে মাথায় পানি ঢেলে দেয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় শিক্ষার্থী সিফাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, এখন তো রোদই নেই। কীভাবে সে রোদে দাঁড়িয়ে থেকে জ্ঞান হারাল? অন্য একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে তার ওই স্কুলে যেতে বিলম্ব হয়েছে বলেও জানান এই সরকারি কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে অভিভাবকরা জানান, আশপাশের সব স্কুলে সকাল ১১টার সময় বই বিতরণ করলেও এ স্কুলে বই দিয়েছে বিকেল ৪টার দিকে। অনেক অভিভাবক আবার ৪টার মধ্যেও বই না পেয়ে শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অতিথিরাও বই বিতরণে বিলম্ব হওয়ার কারণে মঞ্চে বসেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহীনূর রহমান সমকালকে বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসবেন বলে শিক্ষার্থীদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল দুপুর ২টায় আসতে। কিন্তু তারা আগেই চলে আসে। মাঠে শিক্ষার্থীরা নাচ-গান করতে থাকে। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া শিক্ষার্থীর শরীরে আগে থেকেই জ্বর ছিল। অসুস্থতা নিয়েই সে বই নেওয়ার জন্য এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, শিক্ষা কর্মকর্তাকে খাওয়ানো হয়নি। অফিস কক্ষে তিনি আলাপচারিতায়ও সময় ব্যয় করেননি।
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, একজন অভিভাবক তাকে টেলিফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এর পরপরই তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোন করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে বই উৎসবের দিন অপেক্ষায় রাখা ঠিক হয়নি।
- বিষয় :
- শিক্ষা কর্মকর্তা
- বই উৎসবে
- গাজীপুর
