ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বগুড়ায় প্রকৌশলীকে মারধর, অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ায় প্রকৌশলীকে মারধর, অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২১ | আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২৪

নিম্নমানের কাজের অভিযোগে বগুড়ার সোনাতলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাফিউল ইসলাম নামে এক উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনাতলা উপজেলার রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনায় ওই দিন রাতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় ড. এনামুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মালেক আকন্দ ও ৭ শিক্ষকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার সওজের রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। পরে তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে মামলা প্রত্যাহার না হলে শনিবার থেকে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে বলে হুমকি দেন প্রধান আসামি অধ্যক্ষ আবদুল মালেক।

মামলার বাদী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম জানান, মোকামতলা-সোনাতলা সড়কের রেলক্রসিংসংলগ্ন এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল। কাজ তদারকির সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে আবদুল মালেক আকন্দ ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে কাজের ভুল ধরেন। তখন তাকে কাজ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। তাকে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করা হয়। তাদের কারণে কাজ বন্ধ রাখা হলে কিছুক্ষণ পর অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলে আসেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালের একপর্যায়ে রাফিউল ইসলামকে শারীরিক নির্যাতন করেন।

এদিকে প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর রাতে সোনাতলা থানায় অধ্যক্ষ মালেকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৭-৮ জনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে আবদুল মালেক আকন্দ বলেন, 'সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম কখনও কাজের সাইটে আসেন না। হঠাৎ তিনি বৃহস্পতিবার উপজেলার রেলক্রসিং এলাকায় আসেন। সেখানে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করলে ওই প্রকৌশলী অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। তাকে কেউ মারধর করেননি বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ আবদুল মালেক।

তিনি আরও বলেন, সাতজন শিক্ষকসহ তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে শনিবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে প্রকৌশলীকে মারধরের খবর পেয়ে শুক্রবার সওজের রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান ও বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে যান।

নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে থানায় গিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

সোনাতলা থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×