ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া বানরগুলো

চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া বানরগুলো
×

বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া একটি বানর -সমকাল

কবীর উদ্দিন সরকার হারুন, ফুলবাড়িয়া ( ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:১৮ | আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২৩

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সন্তোসপুর বনাঞ্চল। সেখানে ৩ শতাধিক বানরের বসবাস। আর এ বনাঞ্চলে অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কভার ছাড়া তারেই দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎসংযোগ। সেই খোলা তারে এরই মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে প্রায় ১০টি বানর। তাদের মধে একটি মারাও গেছে। যেগুলো বেঁচে আছে সগুলোও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে।

স্থানীয় দর্শনার্থীরা বনে ঘুরতে এসে বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া বানরগুলোকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বানরগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

“বনাঞ্চলে কভারবিহীন তারে আহত হয়ে মরছে বানর” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশে বিদ্যুৎ বিভাগের টনক কিছুটা নড়লেও খোলা তারেই বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ। বনবিভাগ ও স্থানীয়দের দাবির মুখে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ লাইন কিছুটা সংস্কার করলেও বানরের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে।

সোমবার উপজেলার সন্তোষপুর বনবিটে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুতে মুখন্ডল ঝলসে যাওয়া একটি বানর খেতে পারছে না। কোন কিছু খেলে গলা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। অপর একটি বানরের সামনের পা দু’টি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঝলসে যাওয়ায় মাংস খসে পড়ে হাড় বেরিয়ে গেছে। বানরের এমন দুরাবস্থা দেখে দর্শনার্থীরা ব্যথিত হচ্ছেন।

দেখা গেছে, ৫ কি.মি. বিদ্যুৎ লাইনের বানর অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে ৫/৬ টি খুঁটিতে কিছুটা পরিবর্তন করে দুই তারের মধ্যবর্তী স্থানে বেশি জায়গা রেখে পুনরায় বিদ্যুৎসংযোগ দিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস। এতেও বানরের বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি থেকে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বন কর্মকর্তা। 

বনবিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বানরদের থামানো যাচ্ছে না। এরা  বিদ্যুতের তারে লাফালাফি করছে প্রতিনিয়ত। বানর সংঘবদ্ধ প্রাণি। কোনো বানর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে দলবেঁধে বনের অন্য বানরগুলো এ গাছ থেকে ও গাছে লাফিয়ে ছুটে যায় সেখানে। 

বন বিভাগ জানায়, এই বনে প্রায় সাড়ে তিন শ’ বানর রয়েছে। বানরগুলোর বিচরণ ক্ষেত্র পুরো বন এলাকা হলেও সন্তোষপুর বনবিট অফিসের কাছাকাছি তারা বেশি অবস্থান করে। সম্প্রতি পল্লীবিদ্যুৎ বনের ভিতর দিয়ে ৫ কি.মি. নতুন লাইন নির্মাণ করে বিদ্যুৎসংযোগ দেয়।

সন্তোষপুরবাসী ফলচাষী আ্য়ুব আলী জানান, বিদ্যুতের খুঁটি বেয়ে উঠে তারে ঝুলে খেলার সময় বানরগুলো বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হচ্ছে।  বানর সংবদ্ধ প্রাণি হওয়ায় এক বানর আহত হলে সব বানর ওখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে একের পর এক বিদ্যুতায়িত হয়। সংযোগ দেয়ার ৭ দিনের  মধ্যে ১০/১২টি বানর আহত হয়েছে। আহত বানরগুলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাচল করছে। তাদের মধ্যে একটি মারাও গেছে। তাই আহত অন্য বানরগুলোকে বাঁচাতে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানী দোকানি জয়নাল বলেন, বিদ্যুতায়িত হয়ে মুখ ঝলসে যাওয়া একটি বানর প্রতিদিন আমার দোকানে কলা খাওয়ার জন্য বসে থাকত। প্রথম প্রথম ৭/৮ টি কলা খেয়েছে। এখন দু’টোর বেশি কলা খেতে পারছে না। হয়তো মুখের ক্ষত বেড়ে গেছে।

সন্তোষপুর বনবিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, কলার ভেতর এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে আহত বানগুলোকে। তবে বানরগুলো কলা খেয়ে ভেতরের ট্যাবলেটটি ফেলে দিচ্ছে।

ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্মন সমকালকে বলেন, বানর বিদ্যুৎতায়িত হয়ে আহত হওয়ার খবরে ওপরের এসটি লাইন বন্ধ করে দেওয়াসহ নীচের দুই তারের দুরত্ব আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো অসুবিধা হবে না।

আরও পড়ুন

×