ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

উল্লাপাড়ায় শিক্ষকের চড়ে শ্রবণশক্তি হারাল ছাত্র

উল্লাপাড়ায় শিক্ষকের চড়ে শ্রবণশক্তি হারাল ছাত্র
×

আহত স্কুলছাত্র ইসমাইল হোসেন

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:৩৫

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শিক্ষকের চড়ে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে ইসমাইল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী। সে উপজেলার সলংগা ইউনিয়নের চক চৌবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাস করেছে। ইসমাইল চক চৌবিলা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। 

এ অবস্থায় ইসমাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার।

ইসমাইলের মা মঞ্জুয়ারা খাতুন অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে গত বছর নভেম্বর মাসে ক্লাসে পড়া না পারায় প্যারা (অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত) শিক্ষক ফরিদা খাতুন তার ডান কানে সজোরে চড় দেন। এতে তার কান দিয়ে রক্ত ঝরে। প্রথমে তাকে উল্লাপাড়ায় হাই কেয়ার হিয়ারিং সেন্টারে চিকিৎসা করানো হয়। উন্নতি না হলে তাকে রাজধানীর জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা করলেও ইসমাইলের কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি জানান, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। 

ডাক্তাররা বলেছেন, ইসমাইল ডান কানে আর কখনও শুনবে না। ইসমাইলের মা জানান, তিনি ঢাকা থেকে ছেলেকে নিয়ে ফেরার পর শিক্ষক ফরিদা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চক চৌবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু সভাপতি তা আমলে নেননি। মঞ্জুয়ারা এ ব্যাপারে উল্লাপাড়ার ইউএনও ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক ফরিদা খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চক চৌবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের। যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি এখন স্কুলে কর্মরত নেই। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তার কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপরও বিষয়টি তিনি দেখছেন। এ ব্যাপারে স্কুল কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে মীমাংসার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমজি মাহমুদ ইজদানীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইতোমধ্যে সংশ্নিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, স্কুলে আপৎকালীন প্যারা শিক্ষক নিয়োগের বিধান আছে। সে ক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু স্কুল কমিটি অনুমতি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। যেহেতু প্যারা শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতাধীন নন, তাই তার বিরুদ্ধ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও সামাজিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সহযোগিতা করবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ২-১ দিনের মধ্যে তিনি তদন্ত শুরু করবেন। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

অভিযুক্ত প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×