'লক্ষ্মী' হয়ে আসছে আরও ৬ জাহাজ
তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১৪:৩৩
গৌরবের পথচলায় হঠাৎ ছন্দপতন। সেই দুঃসময় কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক জাহাজ। ফলে লোকসান কাটিয়ে কয়েক বছর ধরে লাভের মুখও দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন খবর হলো- বিএসসির ঘরে 'লক্ষ্মী' হয়ে আসছে আরও ছয়টি জাহাজ।
১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাহাজ সেবা খাতে পথচলা শুরু করা বিএসসি গতকাল শনিবার পার করল ৫০ বছর। একটি মিশ্র বাণিজ্যিক জাহাজের বহর গড়ে তুলতে এখন নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসি।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নতুন ইউনিট নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ক্রুড অয়েল পরিবহনে তৈরি হচ্ছে মাদার অয়েল ট্যাঙ্কারের প্রয়োজনীয়তা। এ ছাড়া রামপাল, পায়রা ও মাতারবাড়ীতে তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা হবে কয়লা। এসব কয়লা পরিবহনেও লাগবে জাহাজ। দেশে আমদানিতে অগ্রাধিকার পাবে দেশীয় জাহাজ। প্রকল্পগুলোকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বাড়বে বিএসসির। এ জন্য এখন থেকেই নড়েচড়ে বসছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখন বিএসসির বহরে রয়েছে আটটি জাহাজ। সেগুলো হলো এমভি বাংলার জয়যাত্রা, এমভি বাংলার সমৃদ্ধি, এমভি বাংলার অর্জন, এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা, এমটি বাংলার অগ্রদূত, এমটি অগ্রগতি, এমটি বাংলার জ্যোতি এবং এমটি বাংলার সৌরভ। জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি বাল্ক্ক ক্যারিয়ার, দুটি লাইটারেজ ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার এবং তিনটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিপিং খাতে সেবা বাড়াতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে। নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিএসসির জাহাজের বহর সমৃদ্ধ হওয়ায় বাড়ছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। পাশাপাশি বিস্তৃত হচ্ছে পরিধিও। আরও নতুন ছয়টি জাহাজ আসছে। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে নতুন করে সাজানো হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই শিপিং করপোরেশনকে।
বিএসসি সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালে 'বাংলার দূত' ও ১৯৭৩ সালে 'বাংলার সম্পদ' জাহাজ দিয়ে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে বিএসসি। বিএসসির বহরে সর্বোচ্চ ৪৪টি পর্যন্ত জাহাজ ছিল। ১৯৮০ সালে গিয়ে জাহাজের সংখ্যা ২৬টিতে নেমে আসে। এভাবে কমতে কমতে এক সময় মাত্র দুটি জাহাজ নিয়ে ধুঁকতে থাকে বিএসসি। তবে কয়েক বছর ধরে বিএসসিকে নতুন করে সাজাচ্ছে সরকার। ২০১৮ সালে একটি এবং ২০১৯ সালে পাঁচটি জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত হয়েছিল। এর আগে দীর্ঘ ২৭ বছর বিএসসি বহরে নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়নি। চীনের ঋণ সহায়তায় বহরে যুক্ত হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল তিনটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার এবং তিনটি বাল্ক্ক ক্যারিয়ার। নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়ায় লাভের মুখ দেখতে থাকে বিএসসি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিএসসি নিট লাভ করে ৭১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে বিএসসি সব ধরনের কর পরিশোধ ও পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে লাভ করে ৭২ কোটি ২ লাখ টাকা।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর সুমন মাহমুদ সাব্বির বলেন, 'ব্লু ইকোনমি ধারণা বাস্তবায়নে এসডিজি গোল ২০৩০ এবং রূপকল্প ২০৪১ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি শিপিং সংস্থা গড়ে তুলতে বিএসসিকে একটি মিশ্র বাণিজ্যিক জাহাজ বহরে পরিণত করা হচ্ছে। চীন থেকে বেশি ধারণ ক্ষমতার আরও ছয়টি জাহাজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি বাল্ক্ক ক্যারিয়ার, দুটি মাদার ট্যাঙ্কার এবং দুটি মাদার প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার রয়েছে। এসব জাহাজ দ্রুত যাতে বহরে যুক্ত করা যায় সেটার প্রক্রিয়া চলছে। '
