আগুনে পুড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল
সাতকানিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২২ | ০১:২৬ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২২ | ০১:২৬
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার মাস্টারঘোনা-চিরিংঘাটা-ধোপাছড়ি সড়কের কেয়ারখোলা নামক স্থানে পাহাড়ে কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ বাগান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার বিকেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে পাহাড়ে ঝড়ে পড়া শুকনো পাতায় আগুন লাগে। এতে বিস্তীর্ণ পাহাড় পুড়ে অনেকটা ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হয়। তেমনি চলতি মৌসুমেও কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে কেয়ারখোলা নামক স্থানে পাহাড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসের আগে পাহাড়ের মাঠিতে শুকনো পাতা ও কাঠ পড়ে থাকায় একবার আগুন লাগলে তা পাহাড়ের পর পাহাড় গ্রাস করে নেয়। কিন্তু কী কারণে পাহাড়ে আগুন লাগে বন বিভাগ তা পরিস্কার করে বলতে পারেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচু পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পাহাড়ে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে বনজ ও ফলজ বাগান। ধ্বংস হচ্ছে পশুখাদ্য ও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী, পাখি ও কীট পতঙ্গ।
স্থানীয়রা জানায়, শুকনো এ সময়ে পাহাড়ে বিভিন্ন পাক-পাখালী ও বন্যপ্রাণীরা বাচ্চা দেয়। আগুনে অধিকাংশ পাক-পাখালী ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায় এবং মারা পড়ে প্রচুর পাক-পাখালী ও বন্যপ্রাণী। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিভিন্ন ফলজ বাগানও। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয় জীববৈচিত্র্য। সৌন্দর্য হারাচ্ছে সবুজ পাহাড়।
বনবিভাগ দোহাজারী রেঞ্জের রেঞ্জার সিকদার আতিকুর রহমান জানান, কী কারণে পাহাড়ে আগুন লেগেছে তারা সঠিকভাবে জানেন না। তবে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কীভাবে আগুন লেগেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাহাড়ে প্রতিদিন আসে অসংখ্য মানুষ। কেউ আসে পাহাড়ি ছন কাটতে, কেউ আসে লাকড়ি আহরণ করতে আবার কেউ কেউ আসে ঘুরতে। এদের মধ্য যারা ধূমপায়ী তাদের ছুড়ে ফেলা বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকেই পাহাড়ে আগুন লাগতে পারে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
