সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি
সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সৌদি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান কমান্ডার হিসেবে এখন থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও অন্যান্য সামুদ্রিক
প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ-সমন্বয় এবং অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে আসছিল।
সৌদি আরবের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু এই জলপথের কাছে অবস্থিত। গত মাসের শেষ দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা চালায় হুতি। এর পরপরই নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মতি জানায়। সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোটের সদস্য দেশগুলো হলো–বাংলাদেশ, বাহরাইন, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন।
বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমুখী পণ্য লোহিত সাগর ও এর আশপাশের নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
প্রতিরক্ষা চুক্তি সই সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। গতকাল শুক্রবার মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কায় আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সিএনএন বলছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে এই প্যাক্টটি সামরিক জোট ন্যাটোর মূল সনদের আদলে তৈরি করা হয়েছে। চুক্তির প্রধান শর্ত হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত দেশকে রক্ষায় বাকিরা সমন্বিতভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে।
তবে যৌথ বিবৃতিতে এই চুক্তির অধীনে প্রত্যেকে কী ধরনের প্রতিশ্রুতি বা বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। এই চুক্তিকে বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার কারণে আঞ্চলিক কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের একটি চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক দ্য জার্মান মার্শাল ফান্ডের তুর্কি আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারসিকলি। তিনি বলেন, তুর্কি সামরিক প্রযুক্তি, সৌদি আরবের আর্থিক সামর্থ্য এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
তেহরানের সতর্কতা
এই যৌথ চুক্তির আত্মপ্রকাশের পরপরই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজাই বলেন, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে কেবল একটি কাগজের চুক্তি সই করে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের কাছে ধরনা না দিয়ে সৌদি আরবের উচিত তাদের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা।
- বিষয় :
- চুক্তি
- সামরিক শক্তি