ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

উদ্ভিদ

নতুন গাছ আনকারিনা

নতুন গাছ আনকারিনা
×

বৃক্ষমেলায় দেখা নতুন গাছ আনকারিনা। ছবি: লেখক

মৃত্যুঞ্জয় রায়

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ | ০৮:০৪ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৫ | ০৮:০৫

কারিনা কাপুরের মতোই সুন্দর! মিষ্টি রং। নাম তার আনকারিনা। চমৎকার ফুল। তবে ফলটা দেখতে করোনাভাইরাসের মতো। এবারের বৃক্ষমেলায় প্লান্ট অ্যান্ড প্লান্টার্স গার্ডেন নার্সারির সামনে সাজানো বাগানের এক কোণে ফুলে ভরা আনকারিনা গাছটি নতুন দেখলাম। এ দেশে এর আগে কোথাও এ গাছ দেখিনি। নার্সারির ম্যানেজার মাসুদ রানা বললেন, ‘প্রায় চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গাছটি এনেছিলাম। তখন চারাগাছটি মাত্র এক ফুটের মতো লম্বা ছিল। আমরা একে একটি বড় টবের ভেতর লাগিয়ে চার বছর ধরে লালনপালন করছি। গাছটায় দুই বছর ধরে ফুল ফুটছে।’

সঙ্গে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ গবেষক আবদুর রহিম। তাঁকে আমরা গাছের জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া বলে ডাকি। কেননা, যে কোনো গাছের নাম ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম তিনি চট করে বলে দিতে পারেন। তিনিও বললেন, এ গাছ কখনও তাঁর চোখে পড়েনি। 

আনকারিনা একটি সাকুলেন্ট বা স্থূলপর্ণী প্রকৃতির উদ্ভিদ। এনসাইক্লেপিডিয়া অব সাকুলেন্টসে এ গাছ সম্পর্কে বলা হয়েছে, গাছটির উৎপত্তিস্থল মাদাগাস্কারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সাধারণত এ গাছ দেখা যায়। এটি ছোট আকারের গাছ হলেও বৃক্ষমেলায় থাকা চার বছর বয়সী গাছটি বেশ বড়ই দেখলাম। উচ্চতা প্রায় সাত ফুট। গাছের গোড়াটা অ্যাডেনিয়াম গাছের মতো কিছুটা ফোলা, বাকল অমসৃণ ও ফাটাফাটা। বাকলে বিন্দু বিন্দু বেশ কিছু সামান্য উঁচু বুটি দাগ দেখা গেল। গোড়া থেকে খানিকটা ওপরে প্রধান কাণ্ড থেকে অনেক ডালপালা বেরিয়ে গাছটিকে ঝোপাল করে ফেলেছে। 

গাছ ও ডাল-পাতা দেখে একে অনেকটা ভেন্না গাছের মতো মনে হয়। পাতা দেখতে খানিকটা বেগুনের পাতার মতো লাগে। পাতার রং ধূসর সবুজ, নিচের পিঠ সাদাটে বা রুপালি-সবুজ, মখমলের মতো সূক্ষ্ম তারকাকৃতির পশমে আবৃত, শিরাবিন্যাস স্পষ্ট। ওপরের পিঠ মসৃণ ও চামড়ার মতো কিছুটা পুরু। ডালের মাথায় পাতার বোঁটার কোল থেকে রোমশ ধূসর সবুজ কুঁড়ি জন্মে। এককভাবে ফুল ফোটে; দেখতে অনেকটা মাইকের চোঙের মতো। পাপড়ির গোড়ার দিকটা সাদাটে গোলাপি নলের মতো, মুখের দিকে ছড়ানো, পাপড়ির প্রান্তভাগ অগভীরভাবে পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত, ফুলের গলা থেকে পাপড়ির প্রান্ত পর্যন্ত চিকন রেখার টান রয়েছে, ফুলের রং অনেকটা লাইলাক ফুলের মতো মিষ্টি গোলাপি।

একটা ফুল চিরে রহিম ভাই দেখালেন, ফুলের পুরুষ কেশর চারটির দুটি লম্বা ও দুটি খাটো। মাসুদ রানা জানালেন, ফুল শেষে গাছে অনেক ফল হয়। ফলগুলো দেখতে ঠিক করোনাভাইরাসের মতো, বড়শির মতো বাঁকানো বা হুকযুক্ত লম্বা কাঁটাওয়ালা গোলাকার। বীজ দেখতে তিন কোনা ও ধূসর-কালচে রঙের। বীজ থেকে চারা হয়।

আনকারিনার ইংরেজি নাম Madagascar Mouse Trap Tree or Velvety Uncarina। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Uncarina stellulifera। গোত্র পেডিলিয়েসি (Pedaliaceae)। অর্থাৎ এটি তিল গোত্রের উদ্ভিদ, বাঁচে অনেক বছর। মাসুদ রানা বললেন, তাদের সংগ্রহে ১০ রকমের আনকারিনা আছে। আনকারিনা রোজেলিনা এগুলোর মধ্যে একটি নতুন প্রজাতি। এ পর্যন্ত তারা বীজ থেকে ৫৬০টি চারা তৈরি করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সেগুলো এ দেশে কতটা ভালো ফুল দিতে পারে। আনকারিনা গাছ খরা ও তাপ সইতে পারে। সে কারণে মনে হয়, গাছটি এ দেশে টিকে থাকবে। যে কোনো ছাদ ও বাগানে আনকারিনা আনতে পারে নতুনত্ব। 

আরও পড়ুন

×