ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিআইজিডির সম্মেলনে বক্তারা

প্রতিবন্ধীদের দারিদ্র্য কমাতে প্রমাণভিত্তিক তথ্য দরকার

প্রতিবন্ধীদের দারিদ্র্য কমাতে প্রমাণভিত্তিক তথ্য দরকার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪৫

বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন, যারা অন্যদের তুলনায় অধিক দারিদ্র্যের শিকার। তারা প্রায়ই শিক্ষাব্যবস্থা ও সুষ্ঠু কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত থাকে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধিতার কারণে যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তা সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথভাবে পূরণ করা হয় না।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন (এলএসএইচটিএম) এবং প্রোগ্রাম ফর এভিডেন্স টু ইনফর্ম ডিজঅ্যাবিলিটির অ্যাকশন (পিইএনডিএ) আয়োজিত প্রতিবন্ধীদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তারা এমন মত দেন। তারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দারিদ্র্য কমাতে কোন উদ্যোগগুলো কার্যকর, তা বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে অনুষ্ঠিত সম্মেলেনে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর এভিডেন্স ইন ডিজঅ্যাবিলিটির প্রতিবন্ধিতা গবেষণার সহযোগী অধ্যাপক ড. মরগন ব্যাংকস জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের শ্রমবাজার থেকে বাদ দিলে ১২টি দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের ১ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের পড়াশোনা ও কাজের বাইরে থাকার আশঙ্কা অপ্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান উন্নয়নে কোন পদক্ষেপগুলো কার্যকর–এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণভিত্তিক তথ্য খুবই কম।

ড. মরগন ব্যাংকস দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা এবং বেকার প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ব্র্যাকের স্টার প্লাস কর্মসূচির প্রমাণভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে তিনি দেখান যে, এতে অংশগ্রহণের ফলে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২২ শতাংশ বেড়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, অন্তর্ভুক্তি মানে মানুষকে তাদের অক্ষমতা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা নয়; বরং তারা কীভাবে অবদান রাখতে পারে, তার স্বীকৃতি দেওয়া। যখন প্রতিবন্ধকতা বা ব্যবধানগুলো সঠিকভাবে দূর করা হয়, তখন তাদের অবদানের সুযোগও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন

×