ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা ‘ঢলের’ ৯ বছর

মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি রোহিঙ্গাদের

মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি রোহিঙ্গাদের
×

ফাইল ছবি

 টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১২:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে গতকাল মঙ্গলবার পালিত হয়েছে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস’। দিনটিকে কালো দিবস আখ্যা দিয়ে আয়োজিত সমাবেশে গণহত্যার বিচার, নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সেই রোহিঙ্গা ‘ঢলের’ ৯ বছর পূর্ণ হলো। ‘রিফুজি জীবন ছেড়ে মিয়ানমারে ফিরতে চাই’ স্লোগানসহ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে গতকাল সকাল থেকেই টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পের মাঠে জড়ো হন রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কয়েকটি ক্যাম্পেও সমাবেশ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে নারী, শিশুসহ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেয়। তাদের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন দাবি– নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে চান।

টেকনাফের শালবাগান মাঠে সকাল ৯টায় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) আয়োজিত সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতে রোহিঙ্গা মৌলভী মো. ইউছুপ নিজ ভাষায় মিয়ানমারে চালানো নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরে গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সমাবেশে ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য ও টেকনাফের রোহিঙ্গা নেতা আবু তাহের বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। যারা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে দাবি করে, তাদের সেই দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা। আমাদের ইতিহাস ও পরিচয়ের নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে। আমাদের পরিচয় অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।’

আবু তাহের বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরার কার্যকর পথ দেখতে পাচ্ছেন না। আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন সম্ভব না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, ‘আরাকানে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। আলোচনার মাধ্যমে ফেরত যাওয়া সম্ভব না হলে আমরা অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত।’

সমাবেশে টেকনাফের রোহিঙ্গা নেতা (হেড মাঝি) বদরুল ইসলাম বলেন, ২৫ আগস্ট আমাদের জন্য অশান্তির দিন। ২০১৭ সালের এই দিনে রাখাইনে গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। আমরা সেই গণহত্যার বিচার চাই। উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে সমাবেশে মিয়ানমারে গণহত্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবি এবং মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান বক্তারা।

ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক সহায়তা করেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই।’

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘এ দেশ আমাদের নয়। আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আরাকান আমাদের– এটি আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সত্য। বিশ্বকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।’

উখিয়ার আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়তে চাই। এই ভাসমান জীবন থেকে মুক্তি চাই। জান্তা সরকারের পাশাপাশি আরাকান আর্মিও রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করছে। আমরা নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশে ফিরতে চাই।’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। 

আরও পড়ুন

×