বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সেমিনার
পরিবেশ দূষণ কমাতে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই
লোগো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৪ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে দেশে আইন ও নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থা সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বাপার পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ঢাকায় উৎপন্ন হয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন। মোট বর্জ্যের ৫৫ শতাংশ খোলা জায়গায় ফেলা হয়। এসব বর্জ্য নদী, জলাশয়, ভূগর্ভের পানি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে।
বাপার গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। মোট দূষণের ৩০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। ইটভাটা ও শিল্পকারখানা থেকে ২৯ শতাংশ এবং যানবাহন থেকে ১৫ শতাংশ বায়ুদূষণ হচ্ছে।
শব্দদূষণও নগরবাসীর জন্য বড় সংকট হয়ে উঠেছে। ঢাকার ৮২ শতাংশ এলাকায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি। ফার্মগেট, শাহবাগ ও গাবতলীর মতো এলাকায় শব্দের মাত্রা ৮০ থেকে ১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত ওঠে। এতে শ্রবণশক্তির ক্ষতি, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সেমিনারে জানানো হয়।
সেমিনারে দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরে বাপা। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, সরকারি কাজে ব্লক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা এবং শিল্পকারখানায় অনলাইন বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি রয়েছে।
বাপার সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তারেকদার বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প সহজলভ্য করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার পর দেশের সব বিলবোর্ড বন্ধ করা হলে দৃষ্টিদূষণ কমার পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয়ও কমবে।
- বিষয় :
- পরিবেশ