ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পে-স্কেল কার্যকরের আগে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান টিআইবির

পে-স্কেল কার্যকরের আগে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান টিআইবির
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩৩ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩৮

সরকারি কর্মজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে নতুন বেতন ও ভাতার সুবিধা কার্যকর করার আগে সরকারি কর্মজীবী এবং তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদবিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন।

তবে জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবীদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, যারা প্রতিবছর নিজেদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা তা করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য না করার কথাও বলেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতনস্কেল ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বেতন-ভাতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; কার্যকর জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে। সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিকভাবে পরীক্ষিত একটি পদ্ধতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে এবং দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে উঠবে- সরকারের এমন প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেলের সময়ও একই ধরনের প্রত্যাশা ছিল। পরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এবার এর ব্যতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের করের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই স্বল্প আয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণ চাপে রয়েছেন। নতুন বেতনকাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়লে তাদের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।

তাই নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

আরও পড়ুন

×