ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন

যেভাবে খুঁজে বের করা হলো মন্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়ি

যেভাবে খুঁজে বের করা হলো মন্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়ি
×

রাজধানীর কাকরাইল বিমানমন্ত্রীর গাড়িটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে। পরে সচিবালয়ের সামনে গাড়িটি আটকে মামলা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৪ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৫

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত গাড়ির (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৮ ২১২৫) বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া দুই মামলায় মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের সময় মন্ত্রী গাড়িতেই ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার ৮ মিনিটের দিকে রাজধানীর সার্কিট হাউজ সংলগ্ন কাকরাইল মোড়ে মন্ত্রীর গাড়িটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে। এরপর পুলিশের ট্রাফিকের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গাড়ির নম্বর পাঠিয়ে তার মালিকানার বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। গাড়ির অবস্থানও জানতে চাওয়া হয়। খুঁজে বের করার পর গাড়ির বিষয় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ গাড়িটি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কাকরাইলে তিনি ওই নম্বরের কোনও গাড়ি খুঁজে পাননি। পরে জানা গেছে, সচিবালয়ের ভেতরে গাড়িটি রয়েছে। অবশ্য তার আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে গাড়িটির মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। বিআরটিএর নথিপত্রের সূত্র ধরে ফোন করলেও মালিকানার বিষয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ। তিনি সমকালকে বলেন, মন্ত্রীর গাড়িটির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ ছিল। একটি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, অন্যটি অনিরাপদভাবে গাড়ি চালানো। গাড়িটির চালক ভয়ে লেন অমান্য করেছিলেন। মামলা গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় চালকের। এ কারণে জরিমানার অর্থ চালককেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা দেওয়া যাবে প্রথম যেন এটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ বলেন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি চালক মো. আরিফ হোসেনকে বলা হলে তিনি স্বীকার করেন। পরে দুটি মামলা দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে খুঁজে বের করা হলো মন্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়ি

ট্রাফিক পরিদর্শক আবু মুসা মো. সালেহ আকন্দ আজ কাকরাইল এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমকালকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সচিবালয়ে প্রবেশ করার পর পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা একটি গাড়ির পাঠান। তারা জানান, ওই গাড়িটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। গাড়িটির ব্যাপারে তথ্য নিতে নির্দেশ দেন সিনিয়র অফিসাররা। যে নম্বর দেওয়া হয়েছে সেই নম্বরের গাড়ি কাকরাইল এলাকায় নেই। এরপর সার্জেন্টের মাধ্যমে গাড়ির মালিকের খোঁজ শুরু করি। সার্জেন্টরা বিআরটিএ’র সার্ভার থেকে তাৎক্ষনিকভাবে মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্র দেখতে পারেন। তখন দেখা যায়, গাড়িটি একটি প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর প্রটেকশন বিভাগ থেকে জানান হয়, গাড়ির মালিকের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তখন ধারনা করা হয়, গাড়িটি গাড়িটি সচিবালয় বা আশপাশে থাকতে পারে।

আবু মুসা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা পরে সচিবালয় এলাকা থেকে খোঁজ করে গাড়িটি শনাক্ত করেন। 

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, গাড়িটির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৮৭ ও ৯২ ধারায় দুটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আইনের ৮৭ ধারাটি মূলত ৪৪ ধারার বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি নির্ধারণ করেছে। ৪৪ ধারায় ‘মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ে রয়েছে, শুধু গতিসীমা লঙ্ঘনের বিষয় নেই।

একটি মামলা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ধারায়। অপরাধ হিসেবে লেখা হয়েছে ‘অনিরাপদভাবে গাড়ি চালানো’। মামলাটি করা হয়েছে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে।

দ্বিতীয় মামলাটি হয়েছে ৯২(১) ধারায়। সেখানে অপরাধের বর্ণনায় লেখা হয়েছে ‘সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি’। মামলাটি রেকর্ড করা হয় সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে। দুই মামলার রসিদেই স্থান হিসেবে মৎস্য ভবন ক্রসিং উল্লেখ করা হয়েছে। 

মন্ত্রী যা বললেন 

আজ বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদের প্রবেশমুখে নিজের গাড়ির ট্রাফিক আইন ভঙ্গ ও মামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সার্কিট হাউজ রোডে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের বিপরীত পাশের সড়কে বাম দিকে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেখানে একটি ডিভাইডার রয়েছে এবং সেই অংশটি ফাঁকা পেয়ে তার গাড়ির চালক সেটি অতিক্রম করে অন্য পাশে উঠতে চেয়েছিল, যা স্পষ্টতই ট্রাফিক আইনের একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিজের গাড়ির এমন ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য অনুতপ্ত ও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ায় এবং জরিমানা করায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, আইন ভঙ্গের কারণে তার গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে, তাতে তিনি অত্যন্ত খুশি। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে দেশে আইনের শাসন বজায় রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে যেন অন্য কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়, তার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

আরও পড়ুন

×