হা-মীম সমকাল মেধাবৃত্তি পেলেন ৩৭ শিক্ষার্থী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৩
‘হা-মীম গ্রুপ সমকাল মেধাবৃত্তি’ পেলেন ৩৭ শিক্ষার্থী। তার মধ্যে চলতি বছর ৩১ জনের বৃত্তি নবায়ন হয়েছে, নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও ৬ শিক্ষার্থী। বৃত্তি হিসেবে তারা মাসে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে অভিনন্দনপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, লেখক ও গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রানা চৌধুরী, হা-মীম গ্রুপের পরিচালক ও সমকালের প্রকাশক আবুল কালাম আজাদ, ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার ফোরামের সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক ইয়া আযম, হা–মীম গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমানসহ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা বক্তব্য রাখেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। সঞ্চালনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান।
বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি পুরনোদের শিক্ষাগত ফলের ভিত্তিতে নবায়ন করা হয়। ভালো ফলের ধারাবাহিকতা না থাকলে বৃত্তি বাতিলও হয়।
নতুন বৃত্তিপ্রাপ্ত ছয় শিক্ষার্থী হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নিকোলাস ডি. রোজারিও, আইন বিভাগের তৌহিদুল ইসলাম, গণিত বিভাগের নাসিম মণ্ডল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শোয়েব ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অর্কপ্রভ রায় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাদিয়া সুলতানা।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রানা চৌধুরী বলেন, মেধাবৃত্তির সহায়তায় তোমরা সুপ্রতিষ্ঠিত হলে অতীত ভুলে যাবে না। তোমরা যে স্বপ্ন দেখেছ, সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। এমনভাবে মানুষের পাশে দাড়াবে, যাতে তাদের উচ্চশিক্ষার পথটা সহজ হয়। তোমাদের পাশে হা–মীম গ্রুপ ও সমকাল ছিল, থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকের সামর্থ্য থাকলেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেন না বা তাদের বিত্তের অংশ অন্যকে করেন না। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য হা–মীম গ্রুপ ও সমকালকে ধন্যবাদ জানাই।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছেন, তারা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মেধাবী। বৃত্তি যারা পেয়েছেন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারাও যেন অন্যের পাশে দাঁড়ান; এটা মাথায় রেখেই সামনে আগাতে হবে।
কর্নেল (অব.) ফারুক ইয়া আযম বলেন, মেধাবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। এতে শুধু তারাই নন, অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবেন। তাই, বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিজেদের জীবনকে ভালো করার পাশাপাশি আশপাশের ছোটদেরও অনুপ্রাণিত করতে হবে।
অনুভূতি ব্যক্ত করে শিক্ষার্থী নিকোলাস ডি. রোজারিও জানান, তাকে যে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে, সেটা তার জন্য শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়; মনোবল বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে। সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে চলতে তাকে অনুপ্রাণিতও করবে।
সামিউল হক বর্ষণ বলেন, ছোটবেলা থেকে পুরস্কার পেতে পছন্দ করি। ২০২৩ সাল থেকে এই মেধাবৃত্তি পেয়ে আসছি। এটা ভালো ফল পেতে অনুপ্রেরণা দেয়।
আরেক শিক্ষার্থী মুমতাহিনা দেওয়ান মেধা জানান, একবছর ধরে পাওয়া বৃত্তি থেকে পকেট খরচের পাশাপাশি ছোট ছোট সখও পূরণ করতে পারছেন তিনি।
অভিভাবক জয়নাল আবেদীন জানান, তার মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সময় তাকে এই মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। এটি তাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। বৃত্তিটা যেন অব্যাহত থাকে- এটাই প্রত্যাশা তার।
- বিষয় :
- মেধাবৃত্তি