গুজরাটের ইলিশ আসছে বাংলাদেশে
হাওড়া ফিশ মার্কেটের ইলিশ। ছবি: শুভজিৎ পুততুন্ড/সমকাল
শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা ও বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০০
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কম হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে আসছে ইলিশ। গত দুই-তিন মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা গুজরাটের ভারুচ বন্দর এবং হাওড়া পাইকারি মাছবাজার থেকে ইলিশ আনছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসারের কার্যাললয়ের ইনস্পেক্টর আহসাদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমদানিকারকরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অন্যান্য মাছের পাশাপাশি ইলিশ আনছেন। তবে, কি পরিমাণ ইলিশ আনা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
ভারত থেকে বাংলাদেশে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ।
সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, ‘আমরা সাধারণত এপার বাংলা থেকে বোয়াল, রুই, পারশে, টেংরা ওপার বাংলায় পাঠাই। তবে এবার ওখানে ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবার এখান থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হলো। বাংলাদেশে ডিমভর্তি ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাটের ইলিশে ডিম ভর্তি থাকে, তাই তা ওখানকার মানুষের প্রথম পছন্দ। ওই মাছের ডিম বের করে প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে তারা বিদেশেও রপ্তানি করছেন।’
তিনি আরও জানান, এই মাছ ভারতে এখন প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে জোগান ভালো থাকলে ৩০০ থেকে ৪০০ রুপিতেও প্রতি কেজি বিক্রি হয়। তারা বাংলাদেশে পরিবহন খরচ ছাড়া কেজিপ্রতি গড়ে ৬০০ রুপিতে ইলিশ বিক্রি করেছেন।
সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, প্রতিবছর পূজার আগে এপার বাংলায় সাধারণত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে প্রচুর ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ সরকার কলকাতায় পূজার উপহার হিসেবে এ ইলিশ মাছ পাঠায়। তবে ওই দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাই এ বছর এপারের মাছ ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য বিভাগের কাছে ইলিশ মাছের জন্য আবেদন করেছেন।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে স্বল্প সময়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে আবেদন করেছে।
ভারতীয় আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম ইলিশ ভারতে পৌঁছায়। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরই অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে প্রকৃত রপ্তানির হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যেমন, গত বছর ১ হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ১৫০ টন এবং ২০২৫ সালের হিসেবে ২ হাজার ৪২০ টনের বিপরীতে ভারতে গিয়েছিল মাত্র ৫৭৭ টন।