ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিনা টিকিটে ভ্রমণে অনুশোচনা, ২৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বস্তি

বিনা টিকিটে ভ্রমণে অনুশোচনা, ২৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বস্তি
×

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:২৫

রেলে যাতায়াতে টিকিট না কেটে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। তবে সেই ভুল বুঝতে পেরে বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছায় রেল কর্তৃপক্ষের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাশেদা বানু নামের এক অবসরপ্রাপ্ত নারী কর্মকর্তা। 

শনিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের টিকিট বুকিং কাউন্টারে উপস্থিত হয়ে টাকা জমা দিয়ে ‘ভারমুক্ত’ হন তিনি।

জানা গেছে, ঈশ্বরদী শহরের শেরশাহ রোডের বাসিন্দা রাশেদা বানু দীর্ঘদিন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তিনি অবসরে গেছেন। কর্মজীবনে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন তিনি ট্রেনে ঈশ্বরদী থেকে ভেড়ামারা যাতায়াত করতেন। কখনও তাড়াহুড়ো, আবার কখনও স্বল্প দূরত্বের কারণে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় টিকিট কাটা হয়নি তাঁর।

চাকরি জীবনের ইতি টানার পর তাঁর আত্মোপলব্ধি ঘটে–দীর্ঘদিন বিনা টিকিটে যাতায়াত করে তিনি রাষ্ট্র ও রেলওয়েকে ফাঁকি দিয়েছেন। এই অপরাধবোধ ও গ্লানি মুছে ফেলতে যাতায়াতের আনুমানিক হিসাব করে ২৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে রাজশাহীর রেলওয়ে ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (টিকিট চেকিং) এ. কে. এম. নুরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর পরামর্শ ও সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শহীদুল ইসলামের কাছে ২৫ হাজার টাকা জমা দেন রাশেদা বানু। এ সময় সিনিয়র টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু উপস্থিত ছিলেন।

রাশেদা বানু বলেন, আগে টিকিট না কেটে রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়েছি। বিবেকের তাড়নায় মনে হয়েছে এ ঋণ পরিশোধ করা উচিত। রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে হিসাব করে পুরো টাকা জমা দিয়ে এখন আমি পরম স্বস্তি অনুভব করছি।’

সিনিয়র টিটিই আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু বলেন, ‘ভুল বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় এসে রাজস্ব জমা দেওয়ার ঘটনাটি সমাজে একটি ইতিবাচক ও বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’ 

আরও পড়ুন

×