সৌরপ্যানেলের বর্জ্য সামলানোর পরিকল্পনা নেই
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:২৭
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটছে। তবে মেয়াদ শেষে অকেজো হয়ে পড়া সৌরপ্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির বর্জ্য কীভাবে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদে নিষ্পত্তি করা হবে, তার কার্যকর পরিকল্পনা নেই। দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধিমালা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এরই মধ্যে দেশের ৪১ জেলায় প্রায় দেড় লাখ অকেজো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পড়ে রয়েছে। এসব যন্ত্রের নিরাপদ নিষ্পত্তি বা পুনর্ব্যবহারেরও কার্যকর উদ্যোগ নেই।
বুধবার আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি ও ওয়েস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট সোসাইটি বাংলাদেশ।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একসময় বিপুলসংখ্যক সৌরপ্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বর্জ্যে পরিণত হবে। এসব বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদে নিষ্পত্তির পরিকল্পনা এখনই করা জরুরি। শুরু থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে এ খাতে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২১ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও এর বাধ্যবাধকতাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ খাতে বিভিন্ন নীতি ও কৌশল থাকলেও সামগ্রিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে কার্যকর নীতিকাঠামো নেই। ই-বর্জ্যের পরিমাণ, ধরন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডারের অভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ ও অগ্রগতি মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও সক্ষমতার ঘাটতিও এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং দায়িত্ব বণ্টন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও রয়েছে। পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও লোহাসহ মূল্যবান উপাদান উদ্ধার করে নতুন পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব। তবে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাবে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, ই-বর্জ্য সংগ্রহের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ হয় অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের মাধ্যমে। অথচ এসব কর্মীর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষিত।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী প্রমুখ।
- বিষয় :
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
- পরিকল্পনা