৪৭০ জনের চক্র সারাদেশে, ঢাকায় তালিকাভুক্ত ৯৪
×
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:১৪
জীবনের গল্প বদলে ফেলার আশায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। কেউ দেশের বাইরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে টের পাচ্ছেন যে প্রতারিত হয়েছেন। ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের টোপ দিয়ে মানব পাচারকারীরা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। পাচার হওয়া নারী ও শিশুদের যৌনশোষণমূলক কাজে জড়াতেও বাধ্য করা হচ্ছে। অনেককে আটকে রেখে আদায় করা হচ্ছে মুক্তিপণ। বিদেশ থেকে জীবন নিয়ে কোনোমতে ফিরে আসা মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এই বিভীষিকার চিত্র।
গণমাধ্যমে পাচার হওয়া মানুষজনের এমন ভয়ানক ভাষ্য উঠে আসার পরও বন্ধ হচ্ছে না কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যেতে ইচ্ছুক জনশক্তির অবৈধ পথে হাঁটা। সারাবিশ্বে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় এখন শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। সরকার মানব পাচার মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সাতটি বিভাগে শিগগিরই পৃথক ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই থামছে না মানব পাচার। যার সর্বশেষ উদাহরণ ১১ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের অদূরে সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা। দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টার সময় এই ট্রলারডুবিতে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। যাদের সবাই রোহিঙ্গা। শুধু সেন্টমার্টিনে দেশের সমুদ্র এলাকায় নয়, বিভিন্ন সময় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর থেকে ইতালি যাওয়ার পথেও একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় বহু বাংলাদেশি মারা গেছেন।
এই অবৈধ কাজে সারাদেশে বিশাল এক জাল বিস্তৃত করেছে একটি মানব পাচার চক্র। এরা বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সরকারের একটি দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থা মানব পাচারসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখিত মানব পাচারকারীদের তালিকা ও তথ্য পর্যালোচনা করে চমকপ্রদ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
এই প্রতিবেদনমতে, সারাদেশে মানব পাচার চক্রে জড়িত ৪৭০ জন। শুধু ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলায়ই রয়েছে তালিকাভুক্ত ৯৪ জন মানব পাচারকারী। এ সিন্ডিকেটটিতে জনপ্রতিনিধি ছাড়াও রয়েছেন একাধিক নারী। কিছু প্রতিষ্ঠানও এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পাচারে জড়িত বাহকরা ধরা পড়লেও রাঘববোয়ালদের টিকি এখনও স্পর্শ করা যাচ্ছে না। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মানব পাচারকারী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সাধারণত জোর করে আটকে রেখে শ্রম, যৌনদাসত্ব বা ব্যবসায়িক যৌনশোষণমূলক কাজে নিয়োজিত রাখতে সংঘটিত অবৈধ বাণিজ্যকে 'মানব পাচার' বলা হয়। মানব পাচারকে অনেকে 'আধুনিক দাসত্ব' হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। এটি একটি ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউনিডক) মানব পাচারবিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত ৫ শতাংশ নাগরিককে পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে পাচার হওয়া এসব নাগরিকরা মূলত ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক। দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকরা বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশে মানব পাচারের শিকার হয়।
পাচারকারীদের ডেরা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত উন্নত জীবনের হাতছানিতে তারা ঝুঁকি নিয়ে দেশের বাইরে যান। ডান্স বারে ভালো বেতনে কাজ করবেন, এমন স্বপ্নও থাকে কারও কারও। যদিও সেখানে যাওয়ার পর তাকে জোর করে যৌনশোষণমূলক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। বিদেশের মাটিতে গিয়ে টোকেন ভিত্তিতে ডান্স বারের আড়ালে যৌনব্যবসা করছে এ চক্র। এতে যা আয় হয় তার ১০-২০ শতাংশ দেওয়া হয় ওই নারীকে। বাকি অর্থ চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নেয়।
মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, মানব পাচারের এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ওয়াচ লিস্টের টায়ার-২ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানব পাচারে জড়িত রাঘববোয়ালদের রাজনৈতিক সংশ্নিষ্টতা রয়েছে। তাই বাহক বা চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও হোতারা ধরা পড়ছে না। অনেক সময় মানব পাচার আর মাদক পাচার কার্যক্রম চলছে একই কেন্দ্র থেকে।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধে যে আইন হয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি। যদিও আইনটি চমৎকার। দীর্ঘদিন ট্রাইবুন্যাল গঠন করা যায়নি। মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশলও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ কারণে পাচারকারীরা সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসন খাতেও শৃঙ্খলা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আনা দরকার। আইন বাস্তবায়ন ও তদন্তে পুলিশকে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মানব পাচার সেল) নাসির উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মানব পাচারকারীরা অনেকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশে ভালো চাকরির টোপ দিয়ে পাচার করা নারীদের যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে। এই পাচারকারীরা আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য।
অভিযুক্ত মানব পাচারকারী মাদারীপুর সদরের জামাল বেপারি সমকালকে বলেন, মানব পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। এ অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বৈধ ব্যবসা করছেন।
অভিযুক্ত আরেক মানব পাচারকারী ডুগলু ফকির সমকালকে জানান, তিনি এক সময় বৈধ পথেই বিদেশে লোক পাঠাতেন। কখনও দুই নম্বরি করেননি তিনি।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে মানব পাচারের ঘটনায় প্রায় ছয় হাজার মামলা বিচারাধীন। এগুলোর বিচার চলছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ২০১২ সালে জারি হওয়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হলেও দীর্ঘদিন তা গঠন না হওয়ায় মামলার বিচারে জট তৈরি হয়েছে। আলাদা মানব পাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর সেখানে এসব মামলার বিচার চলবে। বর্তমানে সিআইডির কাছে মানব পাচারের ৩০০ মামলা তদন্তাধীন। মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ড থেকে সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানব পাচারবিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টায়ার-২ ওয়াচ লিস্টে রাখা হয়েছে। যার অর্থ, মানব পাচারের যে নূ্যনতম মানদণ্ড সেটা বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারেনি। এই মানদণ্ডে দীর্ঘদিন থাকলে অনেক দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, লেবানন, কাতার, জর্ডান, থাইল্যান্ড, ওমান, কুয়েত, লিবিয়া, বাহরাইনসহ বিশ্বের আরও কিছু দেশে নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে যারা পাচার হন, তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নারী; ১৫ শতাংশ শিশু।
নারায়ণগঞ্জে তালিকায় দুই নারী :মানব পাচারকারী ও মানব পাচারে সহায়তাকারী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার ১৫ জনের নাম রয়েছে তালিকাটিতে। তাদের মধ্যে দু'জন নারীও আছেন। নারায়ণগঞ্জের তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন- বন্দর থানার দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার রাজু মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম জোছনা, শুভকারদী এলাকার চৌকিদার আসাদুল্লাহ, পুরাতন বন্দর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া, রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী সুমি আক্তার, আড়াইহাজার থানার তরকারি পট্টির নিশাত এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার দুলাল, ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার জহির উদ্দিনের ছেলে বাসেদ, দাবুরপুড়ার হারুন, একই এলাকার কমর উদ্দিনের ছেলে জামাল, মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার, লাল মিয়ার ছেলে মঞ্জুর, আড়াইহাজারের লতুবদী এলাকার চান মিয়ার ছেলে সিরাজ, আউয়াল ফকিরের ছেলে আফাজ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সদরের সিদ্দিক ও সদর থানার একরামপুরের আমির হোসেন।
নরসিংদী :নরসিংদী জেলায় মানব পাচার ও পাচারে সহায়তাকারীর সংখ্যা আট। এদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী সদরের চৌয়ালা এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে জামাল উদ্দিন, বাদুয়ার চরের মৃত মোরল মিয়ার ছেলে মুকুল, রায়পুরার দরিয়া হাইরমারার হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহন, মকবুল হোসেন মুক্কুর ছেলে তুষার, মুস্তা মিয়ার ছেলে বাবুল, শিবপুরের কুতুবারটেকের রূপ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, খাদিমারচরের মৃত মোস্তফার ছেলে এমরান ও মনোহরপুরের রওশন আলীর ছেলে মিশু মিয়া।
মানিকগঞ্জের তালিকায় অর্ধেকের বেশি নারী :এই তালিকায় মানিকগঞ্জের ১৭ জন রয়েছেন। তারা হলেন- ধামরাইয়ের ধল্যার ফোর্ড নগরের আফসার ফকির, ফটকনগরের মালেক ফকির, চর ঘোস্তার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে আনছার আলী, ইদ্রিস আলী, ঘিওরের বাঠইমুরীর হানিফ আলীর মেয়ে শিল্পী আক্তার, রিজিয়া বেগম, গোপিনপুর হাটিপাড়ার জহুরা বেগম, একই এলাকার মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল লতিফ মেম্বার, হাছেন তালুকদারের ছেলে ইউসুফ আলী, জালাল উদ্দিন, মোছাম্মৎ রাশেদা, বাসানী খাতুন, জামেলা, সিংগাইরের চর গাজিন্দার রিয়াজ উদ্দিন খাঁর স্ত্রী মোছা. হেনা, একই এলাকার ইবারত খাঁর মেয়ে আকলিমা ও ফিলিপ।
গাজীপুরে ৮ জন :এই তালিকায় গাজীপুরের যারা রয়েছেন তারা হলেন- শ্রীপুরের মাওনা উত্তরপাড়ার আবুল হাসেমের ছেলে ফাইজুল ইসলাম। তার স্থায়ী ঠিকানা :নেত্রকোনার কলমাকান্দার রাজনগর। এ ছাড়া রয়েছেন শ্রীপুরের আবদার গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে আছিয়া বেগম, কাপাসিয়ার সুলতানপুরের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম, কালীগঞ্জের শীতলপুরের আকবর আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম লিটু, বাসাইলের গুলজার হোসেনের ছেলে আব্বাস আলী, সদর থানার পূবাইলের নুর ইসলাম, মরিয়ম ও কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়ার চাঁন মিয়া।
জামালপুর :এ তালিকায় জামালপুরের যারা রয়েছেন তারা হলেন- জামালপুর সদরের ফকিরপাড়ার মৃত আবদুল মজিদ ফকিরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বিপুল, সদরের চাঁদপুর এলাকার মৃত মোকছেদ মাস্টারের ছেলে বুলবুল আহম্মেদ, একই এলাকার সাইফুল ইসলাম, মেলান্দহের ঘোষেরপাড়ার মো. আব্দুল্লাহ, আবদুল মোতালেব ও আব্দুল্লাহ ও হাজারীবাড়ি এলাকার শহিদুল ইসলাম ওরফে ঊর্মি হাজারী।
কিশোরগঞ্জে ১৩ জন :কিশোরগঞ্জের তালিকায় রয়েছেন মিঠামইনের পুরানকান্দি এলাকার আব্দুল বারিকের ছেলে নবী হোসেন, ভৈরবের ধন মিয়ার ছেলে কাউসার, জগন্নাথপুরের মৃত মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ, লাল মিয়ার ছেলে আলাল মিয়া, মৃত রকিব উদ্দিনের ছেলে জাফর আহমেদ, অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাহপুরের মৃত হাসান আলীর ছেলে পলাশ, রহমত আলীর ছেলে মফিজ মিয়া, একই এলাকার রহিচ মিয়া, জালাল মিয়া, কটিয়াদীর শত্রুধন এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে রতন মিয়া, মতিউর রহমানের ছেলে তোতা মিয়া, চান মিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদরের মনাপাশার মৃত বুলু চৌকিদারের ছেলে মো. জয়নাল।
ফরিদপুরের সাতজন :তালিকাভুক্ত ফরিদপুরের সাতজনের মধ্যে রয়েছেন- রাজৈরের দুর্গাবর্দীর আমজাদ মোল্লার ছেলে ফিরোজ মোল্লা, ভাঙ্গার মোতালেব শেখ, পান্না মোল্লা, কাউসার, লিয়াকত ঢালী, ইকবাল হোসেন ও মুকসুদপুরের আব্দুস সালাম।
মাদারীপুরের তালিকায় আছেন চেয়ারম্যানও : ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও রয়েছেন মাদারীপুরের মানব পাচারকারীদের তালিকায়। তিনি হচ্ছেন রাজৈরের কদমবাড়ির মৃত অর্জুন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস। এ ছাড়া তালিকায় আছেন- মৃত হালান শেখের ছেলে খালেক, হোসেন শেখ, কালকিনির সিরাজুল বেপারি, রাজৈরের বদর পাশার জাকির সেপাই, রজব আলীর ছেলে বাবু, রুবেল বেপারি, জামাল বেপারি, পশ্চিম মাঠ এলাকার আলমগীর কাজী, সজীব শিকদার, মনির হোসেন মাতুব্বর, গোসাইদিয়া এলাকার রফিক খান, পলাশ কাজী, নুরুল ইসলাম খলিফা, রাজৈরের শ্রীকৃষ্ণদী এলাকার লোকমান ফকিরের ছেলে ডুগলু ফকির ও রনি মোল্লা।
শরীয়তপুরে তিনজন : তালিকাভুক্ত শরীয়তপুরের তিন মানব পাচারকারী হলেন- নড়িয়ার ভূমখাড়া এলাকার আবদুল মাতবরের ছেলে আক্কাস মাতবর, পোড়াগাছার আব্দুল আজিজের ছেলে শামসুর রহমান ইদ্রিস ও মাইজপাড়ার বাদশা শরীফের ছেলে রেজাউল হক।
ঢাকার পাঁচ প্রতিষ্ঠান :প্রতিবেদনমতে, মানব পাচারের সঙ্গে ঢাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- নয়াপল্টনের কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ফকিরাপুলের অ্যারাবিয়ান প্লেসমেন্ট, বনানীর মেঘনা ট্রাভেলস ও বাড্ডার মেসার্স ট্রাভেলস।
গণমাধ্যমে পাচার হওয়া মানুষজনের এমন ভয়ানক ভাষ্য উঠে আসার পরও বন্ধ হচ্ছে না কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যেতে ইচ্ছুক জনশক্তির অবৈধ পথে হাঁটা। সারাবিশ্বে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় এখন শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। সরকার মানব পাচার মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সাতটি বিভাগে শিগগিরই পৃথক ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই থামছে না মানব পাচার। যার সর্বশেষ উদাহরণ ১১ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের অদূরে সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা। দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টার সময় এই ট্রলারডুবিতে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। যাদের সবাই রোহিঙ্গা। শুধু সেন্টমার্টিনে দেশের সমুদ্র এলাকায় নয়, বিভিন্ন সময় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর থেকে ইতালি যাওয়ার পথেও একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় বহু বাংলাদেশি মারা গেছেন।
এই অবৈধ কাজে সারাদেশে বিশাল এক জাল বিস্তৃত করেছে একটি মানব পাচার চক্র। এরা বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সরকারের একটি দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থা মানব পাচারসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখিত মানব পাচারকারীদের তালিকা ও তথ্য পর্যালোচনা করে চমকপ্রদ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
এই প্রতিবেদনমতে, সারাদেশে মানব পাচার চক্রে জড়িত ৪৭০ জন। শুধু ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলায়ই রয়েছে তালিকাভুক্ত ৯৪ জন মানব পাচারকারী। এ সিন্ডিকেটটিতে জনপ্রতিনিধি ছাড়াও রয়েছেন একাধিক নারী। কিছু প্রতিষ্ঠানও এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পাচারে জড়িত বাহকরা ধরা পড়লেও রাঘববোয়ালদের টিকি এখনও স্পর্শ করা যাচ্ছে না। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মানব পাচারকারী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সাধারণত জোর করে আটকে রেখে শ্রম, যৌনদাসত্ব বা ব্যবসায়িক যৌনশোষণমূলক কাজে নিয়োজিত রাখতে সংঘটিত অবৈধ বাণিজ্যকে 'মানব পাচার' বলা হয়। মানব পাচারকে অনেকে 'আধুনিক দাসত্ব' হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। এটি একটি ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউনিডক) মানব পাচারবিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত ৫ শতাংশ নাগরিককে পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে পাচার হওয়া এসব নাগরিকরা মূলত ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক। দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকরা বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশে মানব পাচারের শিকার হয়।
পাচারকারীদের ডেরা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত উন্নত জীবনের হাতছানিতে তারা ঝুঁকি নিয়ে দেশের বাইরে যান। ডান্স বারে ভালো বেতনে কাজ করবেন, এমন স্বপ্নও থাকে কারও কারও। যদিও সেখানে যাওয়ার পর তাকে জোর করে যৌনশোষণমূলক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। বিদেশের মাটিতে গিয়ে টোকেন ভিত্তিতে ডান্স বারের আড়ালে যৌনব্যবসা করছে এ চক্র। এতে যা আয় হয় তার ১০-২০ শতাংশ দেওয়া হয় ওই নারীকে। বাকি অর্থ চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নেয়।
মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, মানব পাচারের এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ওয়াচ লিস্টের টায়ার-২ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানব পাচারে জড়িত রাঘববোয়ালদের রাজনৈতিক সংশ্নিষ্টতা রয়েছে। তাই বাহক বা চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও হোতারা ধরা পড়ছে না। অনেক সময় মানব পাচার আর মাদক পাচার কার্যক্রম চলছে একই কেন্দ্র থেকে।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধে যে আইন হয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি। যদিও আইনটি চমৎকার। দীর্ঘদিন ট্রাইবুন্যাল গঠন করা যায়নি। মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশলও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ কারণে পাচারকারীরা সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসন খাতেও শৃঙ্খলা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আনা দরকার। আইন বাস্তবায়ন ও তদন্তে পুলিশকে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মানব পাচার সেল) নাসির উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মানব পাচারকারীরা অনেকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশে ভালো চাকরির টোপ দিয়ে পাচার করা নারীদের যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে। এই পাচারকারীরা আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য।
অভিযুক্ত মানব পাচারকারী মাদারীপুর সদরের জামাল বেপারি সমকালকে বলেন, মানব পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। এ অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বৈধ ব্যবসা করছেন।
অভিযুক্ত আরেক মানব পাচারকারী ডুগলু ফকির সমকালকে জানান, তিনি এক সময় বৈধ পথেই বিদেশে লোক পাঠাতেন। কখনও দুই নম্বরি করেননি তিনি।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে মানব পাচারের ঘটনায় প্রায় ছয় হাজার মামলা বিচারাধীন। এগুলোর বিচার চলছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ২০১২ সালে জারি হওয়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হলেও দীর্ঘদিন তা গঠন না হওয়ায় মামলার বিচারে জট তৈরি হয়েছে। আলাদা মানব পাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর সেখানে এসব মামলার বিচার চলবে। বর্তমানে সিআইডির কাছে মানব পাচারের ৩০০ মামলা তদন্তাধীন। মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ড থেকে সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানব পাচারবিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টায়ার-২ ওয়াচ লিস্টে রাখা হয়েছে। যার অর্থ, মানব পাচারের যে নূ্যনতম মানদণ্ড সেটা বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারেনি। এই মানদণ্ডে দীর্ঘদিন থাকলে অনেক দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, লেবানন, কাতার, জর্ডান, থাইল্যান্ড, ওমান, কুয়েত, লিবিয়া, বাহরাইনসহ বিশ্বের আরও কিছু দেশে নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে যারা পাচার হন, তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নারী; ১৫ শতাংশ শিশু।
নারায়ণগঞ্জে তালিকায় দুই নারী :মানব পাচারকারী ও মানব পাচারে সহায়তাকারী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার ১৫ জনের নাম রয়েছে তালিকাটিতে। তাদের মধ্যে দু'জন নারীও আছেন। নারায়ণগঞ্জের তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন- বন্দর থানার দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার রাজু মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম জোছনা, শুভকারদী এলাকার চৌকিদার আসাদুল্লাহ, পুরাতন বন্দর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া, রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী সুমি আক্তার, আড়াইহাজার থানার তরকারি পট্টির নিশাত এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার দুলাল, ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার জহির উদ্দিনের ছেলে বাসেদ, দাবুরপুড়ার হারুন, একই এলাকার কমর উদ্দিনের ছেলে জামাল, মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার, লাল মিয়ার ছেলে মঞ্জুর, আড়াইহাজারের লতুবদী এলাকার চান মিয়ার ছেলে সিরাজ, আউয়াল ফকিরের ছেলে আফাজ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সদরের সিদ্দিক ও সদর থানার একরামপুরের আমির হোসেন।
নরসিংদী :নরসিংদী জেলায় মানব পাচার ও পাচারে সহায়তাকারীর সংখ্যা আট। এদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী সদরের চৌয়ালা এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে জামাল উদ্দিন, বাদুয়ার চরের মৃত মোরল মিয়ার ছেলে মুকুল, রায়পুরার দরিয়া হাইরমারার হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহন, মকবুল হোসেন মুক্কুর ছেলে তুষার, মুস্তা মিয়ার ছেলে বাবুল, শিবপুরের কুতুবারটেকের রূপ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, খাদিমারচরের মৃত মোস্তফার ছেলে এমরান ও মনোহরপুরের রওশন আলীর ছেলে মিশু মিয়া।
মানিকগঞ্জের তালিকায় অর্ধেকের বেশি নারী :এই তালিকায় মানিকগঞ্জের ১৭ জন রয়েছেন। তারা হলেন- ধামরাইয়ের ধল্যার ফোর্ড নগরের আফসার ফকির, ফটকনগরের মালেক ফকির, চর ঘোস্তার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে আনছার আলী, ইদ্রিস আলী, ঘিওরের বাঠইমুরীর হানিফ আলীর মেয়ে শিল্পী আক্তার, রিজিয়া বেগম, গোপিনপুর হাটিপাড়ার জহুরা বেগম, একই এলাকার মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল লতিফ মেম্বার, হাছেন তালুকদারের ছেলে ইউসুফ আলী, জালাল উদ্দিন, মোছাম্মৎ রাশেদা, বাসানী খাতুন, জামেলা, সিংগাইরের চর গাজিন্দার রিয়াজ উদ্দিন খাঁর স্ত্রী মোছা. হেনা, একই এলাকার ইবারত খাঁর মেয়ে আকলিমা ও ফিলিপ।
গাজীপুরে ৮ জন :এই তালিকায় গাজীপুরের যারা রয়েছেন তারা হলেন- শ্রীপুরের মাওনা উত্তরপাড়ার আবুল হাসেমের ছেলে ফাইজুল ইসলাম। তার স্থায়ী ঠিকানা :নেত্রকোনার কলমাকান্দার রাজনগর। এ ছাড়া রয়েছেন শ্রীপুরের আবদার গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে আছিয়া বেগম, কাপাসিয়ার সুলতানপুরের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম, কালীগঞ্জের শীতলপুরের আকবর আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম লিটু, বাসাইলের গুলজার হোসেনের ছেলে আব্বাস আলী, সদর থানার পূবাইলের নুর ইসলাম, মরিয়ম ও কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়ার চাঁন মিয়া।
জামালপুর :এ তালিকায় জামালপুরের যারা রয়েছেন তারা হলেন- জামালপুর সদরের ফকিরপাড়ার মৃত আবদুল মজিদ ফকিরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বিপুল, সদরের চাঁদপুর এলাকার মৃত মোকছেদ মাস্টারের ছেলে বুলবুল আহম্মেদ, একই এলাকার সাইফুল ইসলাম, মেলান্দহের ঘোষেরপাড়ার মো. আব্দুল্লাহ, আবদুল মোতালেব ও আব্দুল্লাহ ও হাজারীবাড়ি এলাকার শহিদুল ইসলাম ওরফে ঊর্মি হাজারী।
কিশোরগঞ্জে ১৩ জন :কিশোরগঞ্জের তালিকায় রয়েছেন মিঠামইনের পুরানকান্দি এলাকার আব্দুল বারিকের ছেলে নবী হোসেন, ভৈরবের ধন মিয়ার ছেলে কাউসার, জগন্নাথপুরের মৃত মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ, লাল মিয়ার ছেলে আলাল মিয়া, মৃত রকিব উদ্দিনের ছেলে জাফর আহমেদ, অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাহপুরের মৃত হাসান আলীর ছেলে পলাশ, রহমত আলীর ছেলে মফিজ মিয়া, একই এলাকার রহিচ মিয়া, জালাল মিয়া, কটিয়াদীর শত্রুধন এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে রতন মিয়া, মতিউর রহমানের ছেলে তোতা মিয়া, চান মিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদরের মনাপাশার মৃত বুলু চৌকিদারের ছেলে মো. জয়নাল।
ফরিদপুরের সাতজন :তালিকাভুক্ত ফরিদপুরের সাতজনের মধ্যে রয়েছেন- রাজৈরের দুর্গাবর্দীর আমজাদ মোল্লার ছেলে ফিরোজ মোল্লা, ভাঙ্গার মোতালেব শেখ, পান্না মোল্লা, কাউসার, লিয়াকত ঢালী, ইকবাল হোসেন ও মুকসুদপুরের আব্দুস সালাম।
মাদারীপুরের তালিকায় আছেন চেয়ারম্যানও : ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও রয়েছেন মাদারীপুরের মানব পাচারকারীদের তালিকায়। তিনি হচ্ছেন রাজৈরের কদমবাড়ির মৃত অর্জুন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস। এ ছাড়া তালিকায় আছেন- মৃত হালান শেখের ছেলে খালেক, হোসেন শেখ, কালকিনির সিরাজুল বেপারি, রাজৈরের বদর পাশার জাকির সেপাই, রজব আলীর ছেলে বাবু, রুবেল বেপারি, জামাল বেপারি, পশ্চিম মাঠ এলাকার আলমগীর কাজী, সজীব শিকদার, মনির হোসেন মাতুব্বর, গোসাইদিয়া এলাকার রফিক খান, পলাশ কাজী, নুরুল ইসলাম খলিফা, রাজৈরের শ্রীকৃষ্ণদী এলাকার লোকমান ফকিরের ছেলে ডুগলু ফকির ও রনি মোল্লা।
শরীয়তপুরে তিনজন : তালিকাভুক্ত শরীয়তপুরের তিন মানব পাচারকারী হলেন- নড়িয়ার ভূমখাড়া এলাকার আবদুল মাতবরের ছেলে আক্কাস মাতবর, পোড়াগাছার আব্দুল আজিজের ছেলে শামসুর রহমান ইদ্রিস ও মাইজপাড়ার বাদশা শরীফের ছেলে রেজাউল হক।
ঢাকার পাঁচ প্রতিষ্ঠান :প্রতিবেদনমতে, মানব পাচারের সঙ্গে ঢাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- নয়াপল্টনের কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ফকিরাপুলের অ্যারাবিয়ান প্লেসমেন্ট, বনানীর মেঘনা ট্রাভেলস ও বাড্ডার মেসার্স ট্রাভেলস।
- বিষয় :
- মানব পাচার
