ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

'প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ'-এর লোগো উন্মোচন

শিক্ষকের প্রতি সাবেক ছাত্রের বিরল সম্মান

শিক্ষকের প্রতি সাবেক ছাত্রের বিরল সম্মান
×

শনিবার টাইমস মিডিয়া ভবনে 'প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ'-এর লোগো উন্মোচন করেন ফরিদপুরের শতবর্ষী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক এস এম ফরহাদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সমকালের প্রকাশক ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদসহ অতিথিরা - সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪:২৪

শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর সম্মান প্রদর্শনের গল্প দু-একটা ইতিহাসে শোনা যায়। গল্প পড়ে, সিনেমায় দেখে আপ্লুতও হয়েছেন অনেকে। কিন্তু আজকের খবরটি একেবারে বাস্তবতা। একজন সাবেক ছাত্র তার প্রিয় শিক্ষককে জীবদ্দশাতেই অভূতপূর্ব সম্মানে ভূষিত করেছেন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টাইমস মিডিয়া ভবনে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের শতবর্ষী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রবীণ শিক্ষক এস এম ফরহাদকে সেই সম্মাননা জানানো হয়। তার নামে প্রবর্তিত 'প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ'-এর লোগো উন্মোচন ও নীতিমালা ঘোষণা করা হয় এ অনুষ্ঠানে। এই স্কলারশিপে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে শিক্ষককে বিরল সম্মান প্রদর্শন করলেন সমকালের প্রকাশক ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি এ. কে. আজাদ। ফরিদপুরের এই কৃতী সন্তানের এমন উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিশিষ্টজন। অতিথিদের সবাই ছিলেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এস এম ফরহাদ বলেন, তিনি কিছুদিন আগেও অসুস্থ  ছিলেন। প্রচলিত চিকিৎসার বাইরে তিনি সেই অসুস্থতা জয় করে প্রবল প্রাণশক্তিতে আবারও উচ্ছল হতে পেরেছেন তার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থী এ. কে. আজাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অফুরন্ত শুভকামনায়।

অনুষ্ঠানে এ. কে. আজাদ বলেন, এ সম্মান অধ্যাপক এস এম ফরহাদের প্রাপ্য ছিল। তিনি তার মহৎ কর্ম দিয়ে এটি অর্জন করেছেন। এই অসামান্য গুণী শিক্ষককে সম্মান জানাতে পেরে তিনি যে প্রশান্তি পেয়েছেন, তার তুলনা নেই।

এ. কে. আজাদ বলেন, টাকা দিয়ে অনেক কিছুই কেনা যায়, বড় ভবন বানানো যায়; কিন্তু ভালোবাসা কেনা যায় না। ভালোবাসা অর্জন করতে হয়। অধ্যাপক এস এম ফরহাদ, ড. রানা চৌধুরীর মতো গুণী শিক্ষকেরা তাদের মহৎ কর্ম দিয়েই অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। ভালো কাজ করলেই কেবল মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা যায়। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে আনন্দেরও কিছু নেই। তিনি ভবিষ্যতে একটি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বড় উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।

প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ পরিচালনা পরিষদের উপদেষ্টা এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ড. রানা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নীতিমালা পড়ে শোনান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সরকারের যুগ্ম সচিব রেজাউল হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালনা পরিষদের সচিব ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের পরিচালক সাজিদ আজাদ এবং অধ্যাপক এস এম ফরহাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এস এম ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক আজীজ হাসান, ডা. আবুল হাশেম, সমকালের উপসম্পাদক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক অবণী ভূষণ নাথ, বরকতউল্লাহ, আহসানুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, শ্যামল কুমার দাশ, ড. নেহাল উদ্দিন, মীর ইউসুফ আলী, নুরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ আহমেদ, হুমায়রা ইয়াসমিন, দেওয়ান মামুন, কর্নেল ফারুকী আজম, লে. কর্নেল ডা. নাসির আহমেদ, পঙ্কজ মণ্ডল, সঞ্জয় সাহা, রফিকুল ইসলাম জুয়েল, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্না, ফেরদৌসী আখতার আঁখি, সৈয়দ আনোয়ারুল হক মনা এবং শাকিল বিপ্লব।

প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ নীতিমালায় বলা হয়, এই স্কলারশিপ একটি মেধাভিত্তিক এককালীন শিক্ষাবৃত্তি। ফরিদপুর জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থী নির্বাচন করবে স্কলারশিপ পরিচালনা পরিষদ।

পরিষদের উপদেষ্টা ড. রানা চৌধুরী জানান, এই স্কলারশিপকে মর্যাদাপূর্ণ করার জন্যই বিশেষভাবে ফরিদপুর জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া দুই শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ 'শিক্ষা সহায়তা' থেকেও দরিদ্র মেধাবীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিচালনা পরিষদের সভাপতি রেজাউল হায়দার জানান, এই স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত দু'জন শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। একাধিক শিক্ষার্থী সমান নম্বর পেলে পরিচালনা পরিষদ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমিতে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদ তার প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক এস এম ফরহাদকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সেই অনুষ্ঠানেই তার প্রিয় শিক্ষকের নামে স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দেন। এ. কে. আজাদের গড়ে তোলা হা-মীম গ্রুপ এই স্কলারশিপের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষতা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

×