মানব পাচারের জাল: ৪
জেলা পরিষদ সদস্যও মূল হোতার তালিকায়
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪:৩১
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সদস্য কে এম হেলারিং। এই পরিচয়ের বাইরেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। দেশব্যাপী মানব পাচারকারীদের যে তালিকা সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা করেছে, সেই তালিকায় রয়েছে তার নাম। তালিকায় বলা হয়- হেলারিং হলেন মানব পাচারকারীদের পৃষ্ঠপোষক ও মূল হোতা।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ জেলায় মানবপাচারের সিন্ডিকেটের আরও দুই প্রধান ব্যক্তি হলেন কোটচাঁদপুর থানার কুশনা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও ঝিনাইদহ জেলা সদরের কুমোড়বাড়িয়া গ্রামের টিটো।
তালিকা বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, খুলনা ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় মানব পাচারকারীর সংখ্যা ১২০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকটি জেলায় এ তালিকায় একাধিক নারীও রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, 'মানব পাচারের যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা স্পেশাল ক্রাইম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন সীমান্ত এলাকায় অন্য কোনো দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়, তখনও এ বিষয়টি তোলা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধে অত্যন্ত দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয় যাতে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিতে পারেন।' অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেএম হেলারিংয়ের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি তাকে।
নওগাঁর ৯ জন: রানীনগর উপজেলার আতলাই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে শহীদুল ইসলাম, পত্নীতলার মো. নুরুন্নবী, বানিয়াপাড়ার জাফের উদ্দিনের ছেলে নিজাম উদ্দিন, যাত্রাপুর গ্রামের মোজাম্মেল, এনায়েতপুরের আব্দুল কুদ্দুস, বদলগাছী গ্রামের ছলিম শেখের ছেলে নজরুল ইসলাম, বামনকুড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ, মান্দা উপজেলার জোরবাজার গ্রামের বকুল মোল্লা ও বদলগাছি উপজেলার তেজপড়ার আব্দুস সামাদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আজাইপুরের মৃত জোহর আলীর ছেলে আফতারুল হক, নতুনহাটের আইনাল হকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, নামোশংকরবাটি চৌমহনীম গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে বাক্কার আলী, খাদেমুল, বারোঘরিয়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আরমান আলী, বটতলাহাটের শওকতের ছেলে আব্দুল লতিফ নবীন, মহারাজপুর হিন্দুপাড়ার বাবুলের ছেলে মো. জুয়েল, ধাপাপাড়ার নওশাদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, ইউসুফ, ইলিশমারীর মৃত বেলার বিশ্বাসের ছেলে একাবর আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবরমিয়া বইড়াপাড়ার ইসরাইল মাস্টারের ছেলে মো. জাকারিয়া, গাজিপাড়ার কাঞ্চন, নয়নশুকার হাসান আলীর ছেলে নাসির আলী ও দেবীনগর মাহজনটোলার আমজাদ আলীর ছেলে আব্দুর রব।
নাটোর: মানব পাচারে নাটোরের রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন গুরুদাসপুর উপচেলার দামুদা গ্রামের মো. মইন, লালপুর উপজেলার চশুডাঙ্গা গ্রামের মকবুল হোসেন ও বড়াইগ্রাম উপজেলার মহানন্দাগাছার মিরাজ উদ্দিন।
সিরাজগঞ্জ: মানব পাচারে সিরাজগঞ্জের একটি বড় চক্র জড়িত। এ জেলায় মানব পাচার সিন্ডিকেটে রয়েছেন ২৮ জন। তারা হলেন বেলকুচি থানার মৃত কোরবান আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান, কল্যাণপুরের মৃত হযরত আলীর ছেলে ফয়জার, ক্ষিদ্রমাটিয়ার লালমনের ছেলে নুরুল ইসলাম, দেলুয়াকান্দীর হামিদ সরকারের ছেলে মো. বোরহান, একই এলাকার রশীদ ভুঁইয়ার ছেলে আবু বক্কর, আবুল কালাম, দক্ষিণ মাইঝাইলের খায়রুল্লাহ শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম, রান্ধুনীবাড়ির নিজাম মণ্ডলের ছেলে আব্দুল আলীম, দেলুয়া দক্ষিণ গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে জাফর আলী, চরমিটুয়ানীর মো. ময়নালের ছেলে আব্দুল করিম, চরগোপালপুরের ঈমান মণ্ডলের ছেলে মো. মোতালেব, ইসলাম ঠাকুরপুরের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. সুলতান, দেলুয়া মধ্যপাড়ার আব্দুল মান্নানের স্বামী মোসাম্মৎ খুকুমনি, উল্লাপাড়া থানার শোলক গ্রামের আদুরী নাপিতের ছেলে অসিত, মাগুড়াডাঙ্গা গ্রামের জুড়ান প্রামানিকের ছেলে আলী আহমেদ, আদবাকি গ্রামের আব্দুল হাকিম, হাড়িভাঙ্গা গ্রামের আবু আলম, এনায়েতপুর ভাঙ্গাবাড়ির নজরুল ইসলাম, বোয়ালিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের পঞ্চসোনা গ্রামের রওশন আলী, মালদহপাড়ার আব্দুল হামিদ, এসবি ফজলুল হক রোডের শহীদুল ইসলাম, কামারখন্দ থানার সালদিয়া গ্রামের আশরাফ হোসেন, ফেরদৌস, তাড়াশ থানার বরুহাস গ্রামের ডিজে শাকিল ও এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রামের সুরুজ মিয়া।
খুলনা: মানব পাচারে খুলনায় রয়েছেন আটজন। তারা হলেন তেরখাদা থানার মৃত মজিদ মল্লিকের ছেলে মল্লিকপুরের আরিফ, রামচন্দ্র গ্রামের আইয়ুব শেখের ছেলে সাগর, দিঘিলিয়া থানার সেনহাটি গ্রামের মনির খাঁর মেয়ে শিমু খাতুন, সেনহাটি এলাকার সিরাজ খাঁর মেয়ে সালমা, মোল্লারহাট উপজেলার চরআতাল গ্রামের মৃত কোরবান মোল্লার ছেলে শামীম, ডুমুরিয়া থানার আটলিয়া গ্রামের রুহুল আমিন, সোনাডাঙ্গা থানার এ আর জিলানী ও ইমরুল ওরফে সাইফুল।
যশোর: মানব পাচারে যশোরে রয়েছে বেশ বড় চক্র। সেখানে এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ১৫ জন। তারা হলেন শার্শা থানার নারায়ণপুরের সামছেলের ছেলে আব্দুল গণি, নারায়ণপুরের মশিয়ার রহমানের ছেলে খায়রুল, ম্যামলাগাছির মতিন গাজীর ছেলে আলমগীর, শিকারপুরের পশ্চিমপাড়ার মৃত তবিবুর রহমানের ছেলে সাজিদ মোড়ল, বেড়ী নারায়ণপুরের নিজাম উদ্দিনের ছেলে জাফর, মাটিপুকুর গ্রামের তবি, ঝিকরগাছা থানার আব্দুল মুজিদের ছেলে আতিয়ার রহমান, বেনাপোল থানার আব্দুল মজিদের ছেলে নাজমুল, কামাল, সাদিপুরের ইউনুস আলীর ছেলে এবাদুল হোসেন এবাদ, একই এলাকার হাবিব উল্লাহর আব্বাস আলী ও দীন ইসলামের ছেলে আলাউদ্দিন।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ জেলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ১৫ জন। তারা হলেন হরিনাকুণ্ডু থানার দৌলতপুরের বাহার সরদারের ছেলে মাহন, চিতলীপাড়ার বারেক আলীর ছেলে বাবুল, বলরামপুরের মৃত ছাব্দার আলীর ছেলে রুহুজুল, মহেশপুর থানার মহেশপুর বাজারের ইউনুস সিদ্দিকীর ছেলে মিঠু মিয়া, কোটচাঁদপুর থানার গুড়পাড়ার মিজানুর রহমান, শৈলকূপা থানার বগুড়া গ্রামের হাবিবর রহমান মিয়ার ছেলে জামিরুল, শেখরা গ্রামের মুক্তার জুয়ার্দারের ছেলে মশিয়ার রহমান, আমুরাহটের হাছেন মোল্লার ছেলে বাবুল, কালীগঞ্জ থানার বোলপাড়ার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলা সদরের পাতা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আব্দুল কাদের, কুমড়োবাড়িয়ার ফজলের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও ধনঞ্জয় গ্রামের মফিজ মোল্লা।
নড়াইল: নড়াইলেও রয়েছে মানব পাচারের জাল। এই জেলায় ছয়জন এই চক্রের সদস্য। তারা হলেন নড়াগাতীর মৃত মফকুল শেখের ছেলে বিদ্যুৎ শেখ, দক্ষিণ যোগানিয়ার গোলাম রসুল শেখের ছেলে বাবুল শেখ, কচুডাঙার ফকু শেখের ছেলে শিপলু শেখ, নড়াইল জেলা সদরের চুনখোলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রাব্বি, লোহাগড়া থানার আমাদা গ্রামের চানমিয়া শিকদারের ছেলে কামরুজ্জামান সিকদার ও রাধানগরের সানি বাদ্যকর ওরফে হারান।
চুয়াডাঙ্গা: ১১ জনের একটি চক্র চুয়াডাঙ্গায় মানব পাচারে জড়িত। তারা হলেন গবরগাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে বাচ্চু সরকার, খাড়াগোদা গ্রামের আসমান মণ্ডলের ছেলে ছাদেক মণ্ডল, আফসার মণ্ডলের ছেলে জামিরুল মণ্ডল, উজলপুরের নুর ইসলামের ছেলে ফারুক, দামুড়হুদা থানার জগন্নাথপুরের তেতুল মণ্ডলের ছেলে মো. সবুর, আলমডাঙ্গা থানার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের সৈয়দ মণ্ডলের ছেলে আকিম উদ্দিন, এনায়েতপুরের মৃত কায়েম আলীর ছেলে হান্নান, সাইফুল, পারদুর্গাপুরের আরমান আলীর ছেলে আব্দুল খালেক, মুন্সীগঞ্জ জেলার হাশেম মিয়ার ছেলে খায়রুল ও রুইথনপুরের মকছেদ আলী মণ্ডলের ছেলে শরীফ।
বাগেরহাট: বাগেরহাট এলাকায় মানব পাচারকারীর সংখ্যা আটজন। তারা হলেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুতালড়ি গ্রামের মোসলেম তালুকদারের ছেলে আজমল তালুকদার, লোকমান তালুকদার, বাগেরহাট জেলা সদরের মগরা গ্রামের রোকন শেখের স্ত্রী জেসমিন, সোনাকুড় গ্রামের তোফাজ উদ্দিন শেখের ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, বদনিভাঙ্গা গ্রামের হাকিম খানের ছেলে আব্দুল হাকিম খান, শরণখোলা থানার খুড়িয়াখালী গ্রামের সৈয়দ ফরাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, রাজাপুরের মোফাজ্জল হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার ও রাজাপুরের আবেদ আলীর ছেলে জাকির খলিফা।
সাতক্ষীরা: মানব পাচারকারীর তালিকায় সাতক্ষীরার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন শ্যামনগর উপজেলার আবাদচণ্ডীপুরের আব্দুল্লাহ গাইনের ছেলে আব্দুস সাত্তার গাইন, সিদ্দিক গাইন, কলারোয়া থানার মোশারফ হোসেন।
- বিষয় :
- মানব পাচারের জাল
- জেলা পরিষদ
- মূল হোতা
- তালিকা
