ইবি উপাচার্যে ফোনালাপ ফাঁস, কার্যালয়ে তালা ও শিক্ষকদের প্রতিবাদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালায়ে বিক্ষোভ। ছবি: সমকাল
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৫:৪৬ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৫:৪৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামের কণ্ঠ সদৃশ একাধিক অডিও ফাঁস হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস, টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য বলাসহ নানা বিষয়ের আলাপ শোনা যায় ওই অডিওতে।
এর প্রতিবাদে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছে অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভে টিটো মিজান, রাসেল জোয়াদ্দার, মাসুম বিল্লাহসহ ১০-১২ জন অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের নেতা মিজান ও রাসেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ও মান অক্ষুণ্ণ রাখতে দুর্নীতিবাজ ভিসিকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। একই সঙ্গে তার অপসারণ দাবি করছি।’
এদিকে বেলা ১২টার পর এই ঘটনায় দুটি পৃথক বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষক সমিতি ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম। উপাচার্য ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়ার কাছে শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বিবৃতিপত্র হস্তান্তর করেন।
শিক্ষক সমিতি বিবৃতিতে জানায়, উপাচার্যের বক্তব্যে শিক্ষক সমিতি বিস্ময় প্রকাশ করেছে। এতে শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি চরম ভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এছাড়া ক্ষুব্ধ ও হতাশা ব্যক্ত করে উপাচার্যের অবস্থান জানানোর অনুরোধ করে শিক্ষক সমিতি।
এদিকে শাপলা ফোরাম তাদের বিবৃতিতে জানায়, উপাচার্যের এ ধরণের মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ফাঁস হওয়া অডিওর বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য জানাতে চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাপলা ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ভিসির পিএসকে বিবৃতি হস্তান্তর করেছি। এসব বিষয় নিয়ে এখনও তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। নিয়োগ বোর্ড গুলো নিয়েও কোনো পরামর্শ করেননি তিনি। উনি ক্যাম্পাসে ফিরলে সরাসরি কথা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
