ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না: মির্জা ফখরুল

কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না: মির্জা ফখরুল
×

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ১৯:৪২

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি। আমরা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই উদার গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা এখানে অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় সংবাদপত্র প্রদর্শনী। 

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবীরা পত্রপত্রিকায় ‘হাইপ’ উঠিয়ে দিয়েছিলেন যে, এখানে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে আসছে, তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করবে, তবে মানুষ কিন্তু ভুল করেনি। মানুষ ঠিকই তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। এর কারণ বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেছে নিয়েছিলেন ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’গানটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। খুব কাছ থেকে তিনি যুদ্ধ দেখেছেন, ভয়াবহতা দেখেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, হত্যা করেছে, নারীদের নির্যাতন করেছে- তা দেখেছেন তিনি। সে কারণেই তাদের কখনোই ক্ষমা করতে পারেন না। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে আর অন্য কোনো কিছুকে মেলাতে পারেন না।

জিয়াউর রহমানের প্রতি স্মৃতিচারণা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান একজন দেশপ্রেমী মানুষ ছিলেন। আওয়ামী লীগ তাকে ‘অখ্যাত মেজর’ বলে বিদ্রুপ করত। অথচ একাত্তরে গোটা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে যুদ্ধের জন্য তাদের নেতার কাছ থেকে ঘোষণা আসবে। সেটা যখন এল না, তখন এই অখ্যাত মেজরই হঠাৎ চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন, সেটা হলো এই ভূখণ্ডের মানুষগুলোকে একটা স্বকীয়তা, পরিচিতি দেওয়া। একটা আইডেন্টিটি দেওয়া যে, ‘আমরা আলাদা’। আর অত্যন্ত আশার কথা যে- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি, বক্তব্য ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি তিনি দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানান। 

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে সভায় লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।

আরও পড়ুন

×