ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদের আগে বন্যার ধাক্কা

ঈদের আগে বন্যার ধাক্কা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৩ | ১৮:০০

বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে ক্রমাগত বাড়ছে নদনদীর পানি। ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ভারতে বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় হুট করেই গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেয় দেশটি। এতে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে অস্বাভাবিক হারে। একই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলে মৌসুমের প্রথম তিন দিনের বৃষ্টিপাতে হুহু করে পানি বেড়েছে। ঢল সামলাতে লালমনিরহাটের দোয়ানীতে ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলো খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঈদুল আজহার আগে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতে ভারী বর্ষণের কারণে এক সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলের নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করে। গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিকেল ৩টায় পানি কমে ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবগ গেট খুলে দেওয়ায় ভাটিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বেশ কিছু পরিবার  পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, আদিতমারী ও সদর উপজেলার ১৫টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সেই সঙ্গে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অন্যদিকে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদনদীর পানি বাড়ছে। ঘরবাড়িতে পানি না ঢুকলেও তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত। কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক মো. এরশাদুল বলেন, ‘এবার হামার দুই বিঘা জমিত ভালোই পটল আবাদ হইছিল। সকালে পটল ক্ষেত নদীর পানি আসি সোগ তলে গেছে। যতকোনা পাইছি, জমি থাকি পটল তুলছি। বাকিগুলা তুলতে পারি নাই।’

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে বিলীন হয়েছে ১৫টি বসতভিটা। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার।

বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার চর বাটিয়ার রাবেয়া খাতুন বলেন, ঈদের আগে বন্যা হলে চরাঞ্চলের মানুষের খুব কষ্ট হবে। কম দামে গবাদি পশু বিক্রি করে দিতে হবে।

সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরের জামান চৌধুরী বলেন, সুরমার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখনও লোকালয়ে প্রবেশ করেনি। এরপরও বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। তবে ভারতের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জে বন্যা হতে পারে।

সিলেট নগরী ও জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ জানান, সুরমার কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মাসহ নদনদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এ সময়ে এ অঞ্চলের নদনদী সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, ঝালুখালী, ভোগাই-কংশ, সোমেশ্বরী, যাদুকাটার পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কতিপয় পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন রংপুর অফিস, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ছাতক (সুনামগঞ্জ), গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী), রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি]

আরও পড়ুন

×