আক্রান্ত ৪২৪
×
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৪৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গত দুই দিনে দুইশ' ছাড়িয়েছে। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। গত বৃহস্পতিবার ১১২ জন এবং গতকাল শুক্রবার আরও ৯৪ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বৃহস্পতিবার ১ জন এবং শুক্রবার ৬ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে মোট ৪২৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে ঢাকাসহ দেশের ২২ জেলায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায়। ঢাকার ৬১ এলাকায় ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। ঢাকার পরই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এই জেলাকে হট স্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি ক্লাস্টার (এক জায়গায় একসঙ্গে কয়েকজন আক্রান্ত) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।
এদিকে সংক্রমিত জেলা ও এলাকাগুলোকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা ও কিশোরগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাও লকডাউন করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জনবহুল বাংলাদেশে মানুষের জীবনযাত্রার মান সুশৃঙ্খল নয়। যেসব জেলা ও এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব জায়গায়ও মানুষ ঘুরছে, আড্ডা দিচ্ছে- এতে কী লকডাউন কার্যকর হলো? এ জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে বের না হওয়ার যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সেটি শুধু সন্ধ্যায় কেন? নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া দিন-রাত যে কোনো সময়েই কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না- এটি হওয়া প্রয়োজন। লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর করা না গেলে সামনে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনের মতো বাংলাদেশও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, লকডাউন ঘোষণা করে সেটি কার্যকর করতে না পারলে তাতে কোনো লাভ হবে না। যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। সারাদেশের মানুষও উদ্বিগ্ন। করোনার ভয়াবহতা কতটা, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমাদের পরিণতি সেদিকে এগোলে কী হবে- সেটিই এখন চিন্তার বিষয়। তাই সবার প্রতি আহ্বান- নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমরা সচেতন হই। অন্যথায় পরিস্থিতি খারাপ হবে।
করোনা ২২ জেলায় :গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের ২২ জেলায় ৩৩০ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর গতকাল শুক্রবার নতুন করে আরও ৯৪ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। গতকাল আরও নতুন দুটি জেলায় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে আইইডিসিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে সেই জেলাগুলোর নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শুক্রবারের আক্রান্তের তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ১৯৬ জন এবং ঢাকা জেলায় ১৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এই জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এ ছাড়া গাজীপুরে দুই, জামালপুরে তিন, কিশোরগঞ্জে এক, মাদারীপুরে ১১, মানিকগঞ্জে তিন, নরসিংদীতে চার, রাজবাড়ীতে এক, টাঙ্গাইলে দুই, শরীয়তপুরে এক, শেরপুরে দুই, চট্টগ্রামে ৯, কক্সবাজারে এক, কুমিল্লায় চার, মৌলভীবাজারে এক, সিলেটে এক, রংপুরে দুই, গাইবান্ধায় আট, নীলফামারীতে এক, চুয়াডাঙ্গায় এক, ময়মনসিংহে চারজনসহ মোট ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজধানীর ৬১ এলাকায় সংক্রমণ :রাজধানীর ৬১ এলাকায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমিত এলাকাগুলোর মধ্যে আগারগাঁওয়ে ২ জন, আদাবরে একজন, মোহাম্মদপুরে আট, বছিলায় এক, ধানমন্ডিতে ১৩, জিগাতলায় তিন, সেন্ট্রাল রোডে এক, গ্রিনরোডে তিন, শাহবাগে দুই, হাতিরপুলে দুই, বুয়েট এলাকায় এক, আজিমপুরে চার, হাজারীবাগে তিন, উর্দু রোডে এক, চকবাজারে তিন, লালবাগে আট, বাবুবাজারে তিন, ইসলামপুরে দুই, লক্ষ্মীবাজারে দুই, নারিন্দায় এক, দয়াগঞ্জে এক, সোয়ারী ঘাটে তিন, ওয়ারীতে ১০, ধোলাইখালে এক, কোতোয়ালিতে এক, বংশালে চার, যাত্রাবাড়ীতে ছয়, শনিরআখড়ায় এক, মুগদায় এক, পুরানা পল্টনে দুই, রাজারবাগে এক, ইস্কাটনে এক, বেইলি রোডে তিন, মগবাজারে দুই, শান্তিনগরে দুই, বাসাবোতে ১১, রামপুরায় এক, হাতিরঝিলে এক, শাজাহানপুরে এক, বাড্ডায় দুই, বসুন্ধরায় তিন, নিকুঞ্জে এক, মানিকদীতে এক, আশকোনায় এক, উত্তরায় ১৬, বেড়িবাঁধে এক, গুলশানে ছয়, বনানীতে এক, মহাখালীতে দুই, বেগুনবাড়ীতে এক, তেজগাঁওয়ে দুই, কাজীপাড়ায় এক, মিরপুর-১০ নম্বরে তিন, মিরপুর-১১ নম্বরে ছয়, মিরপুর-১২ নম্বরে দুই, মিরপুর-১৩ নম্বরে এক, মিরপুর-১ নম্বরে ১১, শাহ আলী এলাকায় দুই, পীরেরবাগে দুই, টোলারবাগে আট এবং উত্তর টোলারবাগে ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন।
হটস্পট নারায়ণগঞ্জ :নারায়ণগঞ্জ জেলায় কয়েকটি ক্লাস্টার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, আক্রান্তদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগই ঢাকায়। এর পরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জেলার বিষয়ে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে আমরা কাজ করছি। পুরো নারায়ণগঞ্জকে দেশের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থানে যেসব আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন, তারা এ এলাকা থেকে গেছেন। অনেক জেলাতেই আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর তাদের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওইসব ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে গেছেন।
গতকাল শুক্রবার নিয়মিত বুলেটিনে ডা. ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশে এখন পর্যন্ত একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে আছেন দু'জন, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন দু'জন, ৭০ থেকে ৮০ বছরে মধ্যে একজন এবং আরেকজনের বয়স ৯০ বছর। তিনজন ঢাকার বাসিন্দা, দু'জন নারায়াণগঞ্জের এবং একজন পটুয়াখালীর বাসিন্দা। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ এবং ২৫ জন নারী।
ডা. ফ্লোরা বলেন, এলাকাভিত্তিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭ জন ঢাকার এবং ১৬ জন নারায়ণগঞ্জের। এছাড়া ঢাকার মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রাবাড়ী এলাকায় আছেন পাঁচজন। বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে এক হাজার ১৮৪টি পরীক্ষা করা হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় নমুনা সংগ্রহের হার ৩১ শতাংশ বেড়েছে এবং পরীক্ষার হার বেড়েছে ১৮ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১১ হাজার ৮০৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৯২ জন। সারাদেশে ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, চিকিৎসকরা এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাকি জিনিসগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি, যেখান থেকে যতটা পারি এন-৯৫ মাস্ক সংগ্রহ করছি। ৯২ হাজার কিট সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৭১ হাজার মজুদ আছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এক লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৫০০টি। বর্তমানে চার লাখ ৯৮ হাজার ৭২টি পিপিই মজুদ আছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে ঢাকাসহ দেশের ২২ জেলায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায়। ঢাকার ৬১ এলাকায় ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। ঢাকার পরই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এই জেলাকে হট স্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি ক্লাস্টার (এক জায়গায় একসঙ্গে কয়েকজন আক্রান্ত) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।
এদিকে সংক্রমিত জেলা ও এলাকাগুলোকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা ও কিশোরগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাও লকডাউন করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জনবহুল বাংলাদেশে মানুষের জীবনযাত্রার মান সুশৃঙ্খল নয়। যেসব জেলা ও এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব জায়গায়ও মানুষ ঘুরছে, আড্ডা দিচ্ছে- এতে কী লকডাউন কার্যকর হলো? এ জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে বের না হওয়ার যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সেটি শুধু সন্ধ্যায় কেন? নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া দিন-রাত যে কোনো সময়েই কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না- এটি হওয়া প্রয়োজন। লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর করা না গেলে সামনে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনের মতো বাংলাদেশও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, লকডাউন ঘোষণা করে সেটি কার্যকর করতে না পারলে তাতে কোনো লাভ হবে না। যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। সারাদেশের মানুষও উদ্বিগ্ন। করোনার ভয়াবহতা কতটা, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমাদের পরিণতি সেদিকে এগোলে কী হবে- সেটিই এখন চিন্তার বিষয়। তাই সবার প্রতি আহ্বান- নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমরা সচেতন হই। অন্যথায় পরিস্থিতি খারাপ হবে।
করোনা ২২ জেলায় :গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের ২২ জেলায় ৩৩০ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর গতকাল শুক্রবার নতুন করে আরও ৯৪ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। গতকাল আরও নতুন দুটি জেলায় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে আইইডিসিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে সেই জেলাগুলোর নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শুক্রবারের আক্রান্তের তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ১৯৬ জন এবং ঢাকা জেলায় ১৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এই জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এ ছাড়া গাজীপুরে দুই, জামালপুরে তিন, কিশোরগঞ্জে এক, মাদারীপুরে ১১, মানিকগঞ্জে তিন, নরসিংদীতে চার, রাজবাড়ীতে এক, টাঙ্গাইলে দুই, শরীয়তপুরে এক, শেরপুরে দুই, চট্টগ্রামে ৯, কক্সবাজারে এক, কুমিল্লায় চার, মৌলভীবাজারে এক, সিলেটে এক, রংপুরে দুই, গাইবান্ধায় আট, নীলফামারীতে এক, চুয়াডাঙ্গায় এক, ময়মনসিংহে চারজনসহ মোট ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজধানীর ৬১ এলাকায় সংক্রমণ :রাজধানীর ৬১ এলাকায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমিত এলাকাগুলোর মধ্যে আগারগাঁওয়ে ২ জন, আদাবরে একজন, মোহাম্মদপুরে আট, বছিলায় এক, ধানমন্ডিতে ১৩, জিগাতলায় তিন, সেন্ট্রাল রোডে এক, গ্রিনরোডে তিন, শাহবাগে দুই, হাতিরপুলে দুই, বুয়েট এলাকায় এক, আজিমপুরে চার, হাজারীবাগে তিন, উর্দু রোডে এক, চকবাজারে তিন, লালবাগে আট, বাবুবাজারে তিন, ইসলামপুরে দুই, লক্ষ্মীবাজারে দুই, নারিন্দায় এক, দয়াগঞ্জে এক, সোয়ারী ঘাটে তিন, ওয়ারীতে ১০, ধোলাইখালে এক, কোতোয়ালিতে এক, বংশালে চার, যাত্রাবাড়ীতে ছয়, শনিরআখড়ায় এক, মুগদায় এক, পুরানা পল্টনে দুই, রাজারবাগে এক, ইস্কাটনে এক, বেইলি রোডে তিন, মগবাজারে দুই, শান্তিনগরে দুই, বাসাবোতে ১১, রামপুরায় এক, হাতিরঝিলে এক, শাজাহানপুরে এক, বাড্ডায় দুই, বসুন্ধরায় তিন, নিকুঞ্জে এক, মানিকদীতে এক, আশকোনায় এক, উত্তরায় ১৬, বেড়িবাঁধে এক, গুলশানে ছয়, বনানীতে এক, মহাখালীতে দুই, বেগুনবাড়ীতে এক, তেজগাঁওয়ে দুই, কাজীপাড়ায় এক, মিরপুর-১০ নম্বরে তিন, মিরপুর-১১ নম্বরে ছয়, মিরপুর-১২ নম্বরে দুই, মিরপুর-১৩ নম্বরে এক, মিরপুর-১ নম্বরে ১১, শাহ আলী এলাকায় দুই, পীরেরবাগে দুই, টোলারবাগে আট এবং উত্তর টোলারবাগে ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন।
হটস্পট নারায়ণগঞ্জ :নারায়ণগঞ্জ জেলায় কয়েকটি ক্লাস্টার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, আক্রান্তদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগই ঢাকায়। এর পরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জেলার বিষয়ে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে আমরা কাজ করছি। পুরো নারায়ণগঞ্জকে দেশের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থানে যেসব আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন, তারা এ এলাকা থেকে গেছেন। অনেক জেলাতেই আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর তাদের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওইসব ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে গেছেন।
গতকাল শুক্রবার নিয়মিত বুলেটিনে ডা. ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশে এখন পর্যন্ত একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে আছেন দু'জন, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন দু'জন, ৭০ থেকে ৮০ বছরে মধ্যে একজন এবং আরেকজনের বয়স ৯০ বছর। তিনজন ঢাকার বাসিন্দা, দু'জন নারায়াণগঞ্জের এবং একজন পটুয়াখালীর বাসিন্দা। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ এবং ২৫ জন নারী।
ডা. ফ্লোরা বলেন, এলাকাভিত্তিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭ জন ঢাকার এবং ১৬ জন নারায়ণগঞ্জের। এছাড়া ঢাকার মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রাবাড়ী এলাকায় আছেন পাঁচজন। বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে এক হাজার ১৮৪টি পরীক্ষা করা হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় নমুনা সংগ্রহের হার ৩১ শতাংশ বেড়েছে এবং পরীক্ষার হার বেড়েছে ১৮ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১১ হাজার ৮০৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৯২ জন। সারাদেশে ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, চিকিৎসকরা এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাকি জিনিসগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি, যেখান থেকে যতটা পারি এন-৯৫ মাস্ক সংগ্রহ করছি। ৯২ হাজার কিট সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৭১ হাজার মজুদ আছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এক লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৫০০টি। বর্তমানে চার লাখ ৯৮ হাজার ৭২টি পিপিই মজুদ আছে।
