ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

করোনা দিনলিপি

টাকের বাহার দেশজুড়ে!

টাকের বাহার দেশজুড়ে!
×

ছবি: সমকাল

আবু সালেহ রনি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৪৮ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:২৫

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই মাথার চুল কামিয়ে ন্যাড়া হওয়ার হিড়িক লেগেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ইতোমধ্যে অনেকে মাথা ন্যাড়া করে ছবি আপলোড করেছেন। শুধু তাই নয়, অন্যদেরও তারা মাথা ন্যাড়া করার জন্য উৎসাহিত করছেন। অবশ্য এর আগে অঞ্চলভেদে চার বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে মাঝেমধ্যেই ন্যাড়া হওয়ার ঘটনা দেখা যেত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর ঢাকাসহ সারাদেশে সেলুন ও বিউটি পার্লার বন্ধ হওয়ার পর পুরুষ ও নারী উভয় সংকটে পড়েছেন। যে কারণে অনেক পুরুষই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে মাথা কামিয়ে নিয়েছেন, আবার নারীদের অনেকেই নিজেদের চুল ছেঁটে নিয়েছেন। তবে ন্যাড়া হওয়াদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ছোট শিশুদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। পিছিয়ে নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। প্রায় প্রতিদিনই ফেসবুকে তারা ন্যাড়া হওয়ার ছবি প্রকাশ করছে। যারা মাথা ন্যাড়া করেছে, তাদের নিয়ে ইতোমধ্যে গঠন হয়েছে বাংলাদেশ টাকলু পরিষদ (বাটাপ)। যার স্বঘোষিত সভাপতি মুহসিন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানি। একইভাবে ফেসবুকে ন্যাড়া মাথা কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন (কটবেল) নামেও আরেকটি গ্রুপ পাওয়া গেছে। এই গ্রুপে ইতোমধ্যে ৭০ জন ন্যাড়া হওয়ার ছবি প্রকাশ করেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে গত ২৫ মার্চ থেকে সারাদেশে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজার ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে সেলুন ও বিউটি পার্লারও রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ন্যাড়া হওয়ার পর ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী গিয়াস উদ্দিন। তিনি পোস্টে লিখেছেন, 'সহধর্মিণীর সেলুনে।' একইভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ন্যাড়া হওয়ার কারণ তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন সুমন। তিনি ছবি পোস্ট করে বলেন, 'এলাকায় মাইকিং হচ্ছে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। তাই বেকার সময়টা কাজে লাগিয়ে জন্মের পর তৃতীয়বার এই টাক হলাম।'

হঠাৎ করে ন্যাড়া হওয়াদের নিয়ে ফেসবুক গ্রুপ করার বিষয়ে ন্যাড়া মাথা কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের (কটবেল) ফেসবুক গ্রুপ অ্যাডমিন কুমিল্লা ল' কলেজের শিক্ষার্থী মো. ইমদাদুল হক মিলন বলেন, 'ন্যাড়া মাথার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা থেকে গ্রুপটি করা হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাবাংলা ডটনেটের গণমাধ্যমকর্মী এমদাদুল হক তুহিন সমকালকে বলেন, 'করোনার কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে টাক হলাম। সেই ছোটবেলায় টাক হয়েছিলাম। শুধু আমিই না, আমার বাসার তিনজন এবং খালাতো ভাই থেকে শুরু করে আশপাশের অনেকেই টাক হয়েছে। সেলুন বন্ধ। তা ছাড়া সেলুনে চুল কাটানোটাও এখন নিরাপদ নয়। এসব কিছু চিন্তা করেই আমরা টাক হয়েছি।'

ঢাকায় বনানীর একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিশোরগঞ্জের হিমেল হিমু সমকালকে বলেন, 'ন্যাড়া হওয়াটা ভালো। চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান হয়। সময়-সুযোগের জন্য হয়ে উঠছিল না। এবার সুযোগ পেয়ে নিজে হয়েছি এবং বাসার অন্য চার সদস্যকেও মাথা কামিয়ে দিয়েছি। এর মজাই আলাদা।'

জানা গেছে, মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে হঠাৎ করে মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, শিশু অবস্থায় বাবা-মা ন্যাড়া করার পর আর কখনও করা হয়নি। অনেকেই হাসাহাসি করত। কিন্তু এখন বড় ধরনের ছুটি এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় সেলুনে যেতে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরের নিউ তৃপ্তি সেলুন ও জেন্টস পার্লারের স্বত্বাধিকারী তপন কুমার শীল সমকালকে বলেন, 'গত ২৪ মার্চ থেকে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সেলুন বন্ধ আছে। আমরা এখন সবাই বেকার। কর্মীদেরও ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতেও অনেকে মোবাইলে ফোন করে বাসায় কাজের জন্য ডাকছেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় তাদের সেই সেবাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।'

আরও পড়ুন

×