নিয়ম রক্ষায় বসছে সংসদ, চলবে এক ঘণ্টা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:২৫ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:২৮
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নিয়ম রক্ষায় ডাকা সংসদের বৈঠক বসতে যাচ্ছে ১৮ এপ্রিল। তবে এবারের অধিবেশন শেষ হবে এক ঘণ্টায়।
সংসদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদের ইতিহাসে এটা হবে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন। আগামী শনিবার বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে ৬টার মধ্যে অধিবেশন শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং দেশে অব্যাহতভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশনের শেষ ও পরের অধিবেশনের শুরুর মধ্যে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের এই নির্দেশনা রক্ষায় বিরূপ পরিবেশের মধ্যেও অধিবেশন বসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন এমন এমপিদের এই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হবে। এমপিদের কাছে এমন বার্তা পৌঁছাতে ইতোমধ্যেই হুইপদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত এবং ঢাকার আশপাশের সংসদীয় এলাকার সাংসদদের উপস্থিতির ওপর জোর দেওয়া হবে। সংসদের বৈঠকের কোরাম পূরণ করতে সর্বনিম্ন ৬০ জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তাই ওই হিসাব মাথায় রেখে এমপিদের অধিবেশনে যোগ দিতে বলা হচ্ছে।
তবে একাধিক এমপি জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সরাসরি সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তারা চাইছেন অধিবেশন বাতিল করা হোক অথবা ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকের আয়োজন করা হোক। তবে সংসদের কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৫০ জন এমপির জন্য এই ভিডিওর ব্যবস্থা করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এত অল্প সময়ে এটা সম্ভব নয়। তাই অল্প সংখ্যক সদস্যকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হবে এবং ওই দিন সংসদে কোনো দর্শনার্থী থাকবে না। এমনকি অধিবেশনের নিউজ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরাও যেতে পারবেন না।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে শুধু নিরাপত্তারক্ষী ও বৈঠকের ভেতরে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকবে তারাই ঢুকতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন সমকালকে বলেন, ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক ডাকার বিষয়টি সংবিধানে নেই। তাই চাইলেই এই ব্যবস্থা করা যায় না। বৈঠকে স্পিকারকে সব এমপিদের দেখতে হয়। এমপিরা হাত তুলবেন- কে বলতে চান? এ রকম অনেক বিষয় রয়েছে। ঢাকায় অনেক এমপি অবস্থান করছেন। তাতে কোরাম নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
