ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

চাল আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চাল আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:১৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

বিদ্যমান খাদ্য সংকট মোকাবেলায় হতদরিদ্র নারীদের মাঝে ২ হাজার ৫৫০ কেজি সরকারি চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জার্জিদ মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে কমিশনের যশোর কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের তৎপরতা চালানো হলে তিনি পলাতক বলে জানা যায়।

দুদক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুদকের যশোর কার্যালয় থেকে মামলাটির অনুমোদনের জন্য অনলাইনে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কমিশন দেশের এই পরিস্থিতে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে মামলাটির অনুমোদন দেয়। করোনাভাইরাস নিয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে কমিশনের কার্যক্রম চালানো হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. জার্জিদ মোল্লার বিরুদ্ধে করা এজাহরে বলা হয়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে কালিয়া উপজেলার ১১নং পেড়লী ইউনিয়নের ১৯০ জনকে দরিদ্র নারীকে ভিজিডি সুবিধার আওতায় কার্ড প্রদান করা হয়। তাদেরকে চাল প্রদানের জন্য গত ৬ এপ্রিল উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্লার অনুকূলে ওই ১৯০টি কার্ডের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০ কেজি চালের ডিও প্রদান করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান গত ১৪ এপ্রিল ওই পরিমাণ চাল গ্রহণ করে ইউপি কার্যালয়ে সংরক্ষণ করেন।

পরে চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্লা ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি ট্যাগ অফিসারকে আড়াল করে নিজের ইচ্ছেমত চাল বিতরণ করেন।

চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় মো. মতিউর রহমান কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এরই মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল চলতি এপ্রিল মাসের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। ওই সময় কালিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার, অভিযোগকারী মতিয়ার রহমান হাজির হন। সুপারিভাইজারের উপস্থিতিতে পেড়লী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৯০টি কার্ডের মধ্যে ১০৫টি কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ শেষে ৮৫ বস্তা ভিজিডির চাল পরিষদের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়।

এরপর গত ১৮ এপ্রিল সকাল দশটায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার, অভিযোগকারি মতিয়ার রহমান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নিশিকান্ত রায়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদে অবশিষ্ট চাল বিতরণের জন্য ইউপি কার্যালয়ে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর মো. নিজাম শেখ গোডাউন খোলার জন্য বলা হলে তিনি চাবি এনে গোডাউনের দরজা খোলেন। এরপর তারা গোডাউনের ভেতরে গিয়ে অবশিষ্ট ৮৫ বস্তা চাল দেখতে পাননি। উপস্থিত ইউপি সচিব মো. আফজাল হোসেনের কাছে চালের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে পাশে উপস্থিত থাকা চেয়ারম্যানের সহচর নিজাম শেখ বলেন, চাল বিতরণ করে ফেলেছেন।

এরপর ইউপি অফিসে গিয়ে দেখা যায় চালের জন্য বসে আছেন কার্ডধারী কিছু সংখ্যক দরিদ্র নারী। তারা চাল পেয়েছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে তারা কার্ড প্রদর্শন করে বলেন, তাদেরকে চাল দেওয়া হয়নি।

বঞ্চিত ১১ জন নারী হলেন- পাপিয়া, লাকি, নিলা, পিয়ারী হাজেরা, মার্জিনা, আফরোজা, সুফিয়া, শিলা ও রেবেকা ও লিপ্পি। তারা জানান, কার্ডের বিপরীতে তাতের চাল না দিয়ে চেয়ারম্যান বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। গত ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ৮৫ বস্তার মোট ২ হাজার ৫৫০ কোটি চাল আত্মসাত করা হয়।

চাল আত্মসাতকারী ওই চেয়ারম্যারনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৬ ও ৪০৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আরও পড়ুন

×