ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সুস্থদের ১৪ শর্তে মসজিদে নামাজ পড়তে দেওয়ার আহ্বান

সুস্থদের ১৪ শর্তে মসজিদে নামাজ পড়তে দেওয়ার আহ্বান
×

আল্লামা শাহ আহমদ শফী -ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৫৮

শর্ত মানা সাপেক্ষে রমজানে সুস্থ ব্যক্তিদের মসজিদে জুমা, পাঁচ ওয়াক্ত জামাত ও তারাবির নামাজ আদায়ের অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান  জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন আলেম। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান। 

আলহাইয়াতুল উলালিল জামিয়াতুল কওমিয়ার চেয়ারম্যান আহমদ শফীসহ বিবৃতি দাতারা করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ১৪টি শর্ত মেনে চলতে মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এসব শর্ত মেনে চলবেন যারা, তাদের জন্য মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

শর্তগুলো হলো- মসজিদে কার্পেট, জায়নামাজ বা গালিচা বিছানো যাবে না। জুমার বয়ান, খুতবা, জামাত ও দুআ সংক্ষিপ্ত করা হবে এবং নামাযের আগে বা পরে মসজিদের ভেতরে বা সামনে জমায়েত করা যাবে না। পঞ্চাশোর্ধ কেউ মসজিদে আসবে না। যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা করোনা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন কিংবা যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন তারা মসজিদে আসবেন না। যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত তারা মসজিদে আসবেন না। যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তারাও আসবেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। নামাজের কাতারে মুসল্লিদের মধ্যে অন্তত দুই ফুট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে দাঁড়াতে হবে। বাসা থেকে অজু করে যেতে হবে। সকল মুসল্লিকে মাস্ক পরতে হবে, হাত মেলানো ও আলিঙ্গন করা যাবে না। রমজানে মজসিদে সম্মিলিত ইফতার করা যাবে না। 

বিবৃতি আরো বলা হয়েছে, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। শর্তগুলো পালনে প্রতি মসজিদে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করতে হবে। যেখানে এসব শর্ত মানা হবে না, যেসব এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি সেখানে প্রশাসন জামাতে নামাজ বন্ধ রাখতে পারবেন। 

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনার ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিঃসন্দেহে মহান স্রষ্টার সীমাহীন ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি ও অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষ কত অসহায়! একজন মুসলিমের জন্য এ অবস্থায় প্রধান করণীয় হলো, সকল প্রকার গুনাহ থেকে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নত মোতাবেক জীবনযাপন করা।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুফতি মো. ওয়াক্কাস, মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মাওলানা আব্দুল হামীদ, মাওলানা রুহুল আমীন,মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ, মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ।

আরও পড়ুন

×