পিবিআইকে প্রধানমন্ত্রীর সাধুবাদ
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:২৩ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:৩২
সত্য উদ্ঘাটনের মধ্য দিয়ে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে
(পিবিআই) সাধুবাদ জানিয়েছেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ
পাটোয়ারীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা গতকাল বৃহস্পতিবার পৌঁছে
পিবিআইপ্রধানের কাছে।
এ ব্যাপারে পিবিআইপ্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার গতকাল সমকালকে বলেন,
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি। তার বার্তা আমরা
পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য প্রেরণাদায়ক। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ধন্যবাদ
জানিয়েছেন।
পিবিআইপ্রধান বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা
হয়েছে। শুরু থেকেই আমাদের চেষ্টা ছিল একটি নির্ভুল তদন্তের মধ্য দিয়ে
চার্জশিট দাখিল করা। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় তদন্তে ছিল পুলিশ
ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অল্প সময়ের ওই মামলার তদন্ত শেষ করে
চার্জশিট দাখিল করেছিল তারা। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের
মধ্যে গতকাল এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পিবিআইপ্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার
সমকালকে বলেন, শুরু থেকেই এ মামলার তদন্তে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথম
চ্যালেঞ্জ ছিল এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। কারণ, এটা নিয়ে শুরু থেকে নানা
ধরনের সংশয় ছিল। হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল আসামিরা যেন
দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে। আমরা সেটা ঠেকাতে পুরোপুরি সফল হয়েছি।
কোনো আসামি বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্তে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটত। এটিই
একমাত্র বড় মামলা, যেখানে সব আসামিকে বিচারের সময় কাঠগড়ায় হাজির করা গেছে।
সবাই নিজের রায় নিজে শুনেছে। একজনও পালিয়ে থাকতে পারেনি।
বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, এটি ফৌজদারি মামলার তদন্তে নতুন মাইলফলক। কারণ
এ মামলার ক্ষেত্রে স্কেচ ম্যাপ, ডিজিটাল ম্যাপ, ফ্লো ও লিঙ্ক চার্ট,
রংতুলির ব্যবহার করা হয়েছে। সূক্ষ্ণ জিনিস প্রমাণে এসব বিষয় সামনে আনা হয়।
আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিজিটাল প্রেজেনটেশন দিয়েছেন। সেখানে আসামি
শাহাদাত হোসেন শামীম ও রুহুল আমিনের মধ্যকার কথোপকথন শোনানো হয়। তদন্ত
প্রক্রিয়ায় এসবের ব্যবহার অতীতে অন্য কোনো মামলায় হয়নি।
বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সর্বোচ্চ মেধার প্রয়োগ ঘটিয়ে শুরু থেকে এ মামলার
তদন্ত করা হয়েছে। পিবিআইর সাত-আটটি ইউনিট তদন্ত কাজে যুক্ত ছিল। শুরু থেকে
পিবিআইর সদস্যদের এটা বুঝেয়েছি, এ বয়সের একটা মেয়ে তোমাদের যে কারও বোন হতে
পারত। সবাই তার বোন মনে করেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছে। তিনি বলেন,
দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার পর
বিচারে শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বনজ কুমার মজুমদার বলেন, শুধু নির্ভুল চার্জশিটের ওপর বিচার নির্ভর করে না।
সাক্ষীদেরও ব্যাপার রয়েছে। আরও অনেক বিষয় থাকে। সবগুলো সম্পূর্ণ হলেই সঠিক
রায় আসতে পারে। নুসরাতের মামলায় তদন্ত থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার
প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্র সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- বিষয় :
- পিবিআই