ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
×

সোহাগী জাহান তনু হত্যা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৭

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) পৃথকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে এ নোটিশ জারি করে। বুধবার পুলিশ সদরদপ্তর ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সৈনিক মো. শাহীন আলমকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের অবস্থান অজ্ঞাত এবং তাঁরা পলাতক রয়েছেন।

পলাতক দুই অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত ও তাঁদের গ্রেপ্তারে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।

এর ফলে ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো তাঁদের অবস্থান শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

যেভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। ওই রাতে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

পরদিন ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তনুর বাবা এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া হাফিজুর হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×